বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক তেলের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকার কারণে বর্তমানে বিশ্ববাজারে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবহারোপযোগী তেল অবশিষ্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-র প্রধান ফাতিহ বিরল আজ এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত জি-৭ (গ্রুপ অব সেভেন) ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইইএ প্রধান এই হুঁশিয়ারি দেন।
ফাতিহ বিরল জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের কৌশলগত সংরক্ষিত তহবিল (Strategic Reserves) থেকে প্রতিদিন ২৫ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "এই সংরক্ষিত তেলও কিন্তু সীমাহীন নয়।"
আইইএ প্রধান আরও উল্লেখ করেন, উত্তর গোলার্ধে বর্তমানে ফসলের মৌসুম এবং গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে ডিজেল, সার, জেট ফুয়েল ও পেট্রোলের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে, যা অবশিষ্ট তেলের মজুদকে আরও দ্রুত গতিতে সংকুচিত করে তুলবে।
বাণিজ্যিক তেলের মজুদের বিষয়ে তিনি বলেন, "বর্তমান মজুদ আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলবে। তবে আমাদের সবাইকে এই বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে যে, বিশ্বজুড়ে তেলের এই রিজার্ভ অত্যন্ত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।"
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই তীব্র সংকটের প্রভাব বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি খাত, কৃষি উৎপাদন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।