ভারতের আসাম রাজ্যে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পথে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। রোববার (১০ মে) বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে যাচ্ছেন তিনি।
রাজ্যের গভর্নর বা রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিমন্ত শর্মা নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাজ্যপালের সম্মতি মিললে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।
নতুন এনডিএ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরেও জোর প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
আসাম বিজেপির সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া জানান, রোববারই রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবে বিজেপি। তিনি বলেন, আজ বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর এনডিএ বিধায়কদের বৈঠক হবে। পরে আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাব।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি এবং এনডিএর শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।
বিজেপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কমলাক্ষ্যা দে পুরকায়স্থ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আসামের মানুষ চান হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রী হোন। শুধু আসাম নয়, গোটা দেশই তাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির ১২৬ আসনে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৮২টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১০২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এ ছাড়া বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি) ১০টি করে আসনে জয়ী হয়েছে।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আসামে এনডিএ জোটের তৃতীয় বারের মতো জয়। রাজ্যটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করেছে বিজেপি। এই বড় জয়ে শুধু বিজেপিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে এনডিএ জিতেছে, যেখানে মূল ভোটার ছিলেন অসমীয়া, আদিবাসী ও বাঙালি-হিন্দু জনগোষ্ঠী। শুধু দুটি আসনে তারা হেরেছে। এর মধ্যে একটি পেয়েছে কংগ্রেস এবং অন্যটি তাদের মিত্র রায়জোর দল।
২০১৬ ও ২০২১ সালে দলটি এককভাবে ৬০টি আসন পেয়ে তার মিত্র এজিপি’র সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করেছিল। ২০১৬ সালে বিপিএফ ও ২০২১ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের (ইউপিপিএল) সঙ্গে জোট বেঁধে দলটি যথাক্রমে ৮৬ এবং ৭৫ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।