যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এবার জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে কুখ্যাত জেফ্রি এপস্টেইন মামলার ৩৫ লাখেরও বেশি নথিপত্র। ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জেফ্রি এপস্টেইন মেমোরিয়াল রিডিং রুম’ নামে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্রাইমারি ফ্যাক্টস (Institute for Primary Facts)।
নিউইয়র্কের ট্রিবেকা (Tribeca) এলাকায় আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিগুলো মুদ্রণ করে হাজার হাজার খণ্ডে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, পুরো সংগ্রহে প্রায় ৩৫ লাখ পৃষ্ঠা রয়েছে এবং এর ওজন ১৭ হাজার পাউন্ডেরও বেশি। তথ্য মিলিটারি.কম
প্রদর্শনীর মুখপাত্র ডেভিড গ্যারেট বলেন, ‘ডিজিটাল ফাইল হিসেবে এসব নথি দেখলে এর ব্যাপকতা বোঝা যায় না। কিন্তু কাগজে মুদ্রিত অবস্থায় সাজানো এই বিশাল সংগ্রহ মানুষকে মামলার গভীরতা ও গুরুত্ব নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে।’
তার ভাষায়, এত বিপুল পরিমাণ নথি বাস্তবে সামনে দেখলে মানুষ বুঝতে পারে ঘটনাটি কত বড় ছিল।

এই রিডিং রুম শুধু পুরোনো নথির প্রদর্শনী নয়, বরং এটি আরও স্বচ্ছতার দাবিও তুলছে। আয়োজকদের মতে, এখনও অনেক নথি আংশিক গোপন রাখা হয়েছে এবং পুরো সত্য জনসমক্ষে আসেনি বলে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তবে দর্শনার্থীদের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতাও রাখা হয়েছে। সব নথি সরাসরি হাতে নিয়ে দেখার সুযোগ সবাই পাচ্ছেন না। সাংবাদিক, আইনপ্রণেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ প্রবেশাধিকার রাখা হয়েছে। কারণ কিছু নথিতে এখনও ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য রয়ে গেছে বলে দাবি আয়োজকদের।
গ্যারেট জানান, নথি যাচাইয়ের সময় তারা কিছু অপ্রকাশিত নাম ও সংবেদনশীল তথ্য খুঁজে পেয়েছেন। তাই ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে।
প্রদর্শনীর কেন্দ্রে রাখা হয়েছে ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি বিশেষ অংশ। চারপাশে সাজানো হয়েছে মামলার নথি, টাইমলাইন এবং বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনা।

জেফ্রি এপস্টেইন বহু বছর ধরে যৌন নির্যাতন ও মানব পাচারের অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। তার সঙ্গে প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ ছিল বলে বিভিন্ন নথিতে উল্লেখ থাকলেও তিনি কোনো ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রদর্শনী আবারও ক্ষমতাবানদের জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থা এবং সরকারি স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করতে পারে।