হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'ফার্স নিউজ' জানিয়েছে, গত এক ঘণ্টা ধরে ওই অঞ্চলে ইরানি বাহিনী এবং মার্কিন রণতরীগুলোর মধ্যে 'বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ' চলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রাতের হামলার ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। এর মধ্যেই দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় এই খণ্ডযুদ্ধের খবর পাওয়া গেল।
গত রাতে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার ঘটনায় একজন নাবিকের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার ঘটনার পর থেকে ওই অঞ্চলে রণসাজ বিরাজ করছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং হরমুজ প্রণালীতে দুই দেশের সামরিক উপস্থিতির কারণে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, যেকোনো হঠকারিতার কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবটি ইরান এখনো পর্যালোচনা করছে এবং এর প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার (৮ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এ তথ্য জানান।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম-এর বরাতে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘটে যাওয়া সামরিক সংঘাতের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন।
বাগাই বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো ধরনের 'আগ্রাসন ও হঠকারিতার' জবাব দিতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত।
আজই ইরানের জবাব আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে আজ শুক্রবারের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
শুক্রবার (৮ মে) ইতালির রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রুবিও বলেন, 'আমরা দেখব ইরানের জবাবে কী থাকে। আমাদের প্রত্যাশা হলো, এটি এমন কিছু হবে যা আমাদের একটি কার্যকর ও গুরুতর আলোচনার প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে সহায়তা করবে।'
লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে রুবিও স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করবে না। আলোচনার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কেবল লেবানন সরকারের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছে।
মার্কিন হামলায় নিখোঁজ এক ইরানি নাবিকের মরদেহ উদ্ধার: গভর্নর
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলার ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ নাবিকের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব কাউন্টির গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর আজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'মেহের নিউজ'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো নিখোঁজ বাকি চার নাবিককে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
গভর্নর মোহাম্মদ রাদমেহর এর আগে জানিয়েছিলেন যে, গত রাতের ওই হামলার ঘটনায় ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন। ওমান সাগর ও হরমুজ প্রণালির মধ্যবর্তী মিনাব কাউন্টি সংলগ্ন এলাকায় এই হামলা চালায় মার্কিন নৌবাহিনী, যার ফলে পণ্যবাহী জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
নিখোঁজ বাকিদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে। এর আগে ইরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করে একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে আগুন: ১০ নাবিক আহত, নিখোঁজ ৫
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।
গত রাতের এই হামলায় অন্তত ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন এবং ৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা 'মেহের নিউজ'।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের মাকরান সাগর এবং হরমুজ প্রণালির মাঝামাঝি মিনাব কাউন্টি সংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার পণ্যবাহী জাহাজটিতে দ্রুত আগুন ধরে যায়।
মেহের নিউজ জানিয়েছে, জাহাজটিতে মোট ১৫ জন নাবিক ছিলেন। আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ৫ জন নাবিকের খোঁজে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও অনুসন্ধানকারী সংস্থাগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।