পশ্চিমবঙ্গের মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডকে তৃণমূল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সদস্য রাহুল সিনহা। তার দাবি, এই হত্যাকাণ্ড সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও উপর মহল থেকে ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের’ দিয়ে হামলা করানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(৭ মে) বারাসত হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর চন্দ্রনাথের দেহ লাশবাহী গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় তার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাড়িতে। শুক্রবার (৮ মে) সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
রাহুল সিনহার বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার মানুষের সমর্থন হারিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে। মানুষ তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে, তাই এখন তারা হিংসার রাজনীতি করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের ফল ঘোষণার পর বিজেপির একাধিক কর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন ও সেসব ঘটনার পিছনেও তৃণমূলের হাত রয়েছে।
এই বিজেপি নেতার দাবি, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছেন। যে গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল তার নম্বর প্লেট বদলানো হয়েছিল। এমনকি, চ্যাসিস ও ইঞ্জিন নম্বরও বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তদন্তে ধরা না পড়ে। তার মতে, তিন-চার দিন ধরে রেকি করে এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষা হয়েছিল।
পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখে রাহুল সিনহা বলেন, এতদিন পুলিশ দলদাস হয়ে কাজ করেছে। এখন স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সুযোগ পেয়েছে। এই মামলায় সত্য সামনে আসবে।
তিনি আদালতের তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্তের দাবিকেও কটাক্ষ করে বলেন, আগে তথ্য লোপাটের আশঙ্কা ছিল, এখন রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতে চলেছে বলে নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব হবে।
রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়েও মুখ খোলেন বিজেপির এই নেতা। তিনি বলেন, ডিজি, পুলিশ কমিশনার, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দিয়ে সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রক্তের বদলে রক্ত নয়, আইনের মাধ্যমেই হত্যাকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
তবে বিজেপি কর্মীদের প্রতিশোধের দাবির প্রসঙ্গে রাহুল সিনহার বক্তব্য, আমরা যদি হত্যার বদলে হত্যা করি, তাহলে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির পার্থক্য কোথায় থাকবে? আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবার (৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেল ও একটি গাড়ি নিয়ে এই হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা প্রথমে চন্দ্রনাথের গাড়ির পিছু নেন, পরে রাস্তা আটকে অন্তত ছয় রাউন্ড গুলি চালান। গাড়ির কাচ ভেদ করে তিনটি গুলি চন্দ্রনাথের শরীরে লাগে, দুটি বুকে ও একটি পেটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।