গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে সংঘটিত আকাশযুদ্ধে বড় ধরনের সফলতার দাবি করেছে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (পিএএফ)। দেশটির বিমানবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব এয়ার স্টাফ এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী জানিয়েছেন, ‘মারকা-ই-হক’ নামের অভিযানে পাকিস্তান ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিরুদ্ধে ‘৮-০’ ফল অর্জন করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে ভারতের অন্তত আটটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
বুধবার ‘মারকা-ই-হক’ অভিযানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এবং রিয়ার অ্যাডমিরাল শিফাত আলী খানও উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ ও ৭ মে ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। এরপর সীমান্তে সামরিক সংঘাত শুরু হয়, যা প্রায় ৮৭ ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। পাকিস্তানের ভাষ্য, ওই সংঘর্ষে তারা ভারতের কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করে।
এয়ার ভাইস মার্শাল তারিক গাজী বলেন, সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল অভিযানের ঘটনা ও সাফল্য আবারও সামনে তুলে ধরা। তিনি সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ না করে বলেন, প্রতিপক্ষ বারবার নিজেদের বক্তব্য পরিবর্তন করছে, কারণ তারা এখনো পুরো ঘটনার বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান জহির আহমেদ সিধু অভিযানের কৌশল নির্ধারণ করেন এবং সরাসরি নেতৃত্ব দেন। সংঘাত চলাকালে পাকিস্তান বিমানবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল এবং আকাশসীমা ও শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়।
গাজীর দাবি, অভিযানে পাকিস্তান চারটি রাফাল, একটি সুখোই-৩০, একটি মিগ-২৯, একটি মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান এবং একটি উন্নত মাল্টি-রোল ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ইতিহাসে এই প্রথম বহুমুখী সামরিক সক্ষমতা সমন্বয়ের মাধ্যমে এত বড় পরিসরে সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শীর্ষনিউজ/