আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অসহায় মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখ সমরে পাঠানোর অভিযোগে রাশিয়ার নেটওয়ার্কগুলোর ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার (৫ মে) ঘোষিত এই নতুন ৩৫টি নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য হলো- মানুষ পাচারের সেইসব কার্যক্রম বন্ধ করা, যা নাইজেরিয়া, সিরিয়া এবং ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের মানুষকে উন্নত জীবনের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি এই কার্যক্রমকে ‘বর্বর’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া অসহায় মানুষদের শোষণ করছে এবং তাদের ‘ক্যানন ফডার’ বা কামানের খোরাক হিসেবে ব্যবহার করছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফেডারেশনের গত সপ্তাহের একটি প্রতিবেদনের পর এই নিষেধাজ্ঞাগুলো এলো। ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২২ সাল থেকে রাশিয়া অন্তত ২৭ হাজার বিদেশি যোদ্ধাকে নিয়োগ দিয়েছে। প্রতিবেদনে একটি ‘বৈশ্বিক নিয়োগ ব্যবস্থার’ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা পরিকল্পিতভাবে অতি দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের লক্ষ্য করে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায়ই তাদের ইউরোপে ভালো বেতনের বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করা হয়।
প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, এসব নিয়োগকৃত ব্যক্তিদের এক-পঞ্চমাংশই যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েনের প্রথম চার মাসের মধ্যে প্রাণ হারান। মূলত অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং কমান্ডারের দুর্ব্যবহারের কারণে তাদের এই পরিণতি ভোগ করতে হয়।
মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষক পোলিনা আজারনিখ। তার বিরুদ্ধে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে লোক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কিউবানদের প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগে এলেনা স্মিরনোভা এবং কিউবান নাগরিক ডায়ানা ইচেমেনদিয়া দিয়াজকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, সার্গেই মারজলিয়াকভ এবং সিরীয়-ইরাকি দ্বৈত নাগরিক আবিদ কালিদ শরিফ আবিদ নামক দুই ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও মানুষ পাচার করে ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে পাঠানো এবং ফিনল্যান্ড ও পোল্যান্ডে অস্থিরতা তৈরিতে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্টুডেন্ট ভিসা বা রাশিয়ার নিরাপত্তা খাতে চাকরির মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগের দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ফয়সাল খান, দীপক পান্ডে, মনজিৎ সিং, রাকেশ পান্ডে এবং মোহাম্মদ দারাগুর নামে পাঁচ ভারতীয় নাগরিকের পাশাপাশি ‘বাবা ভ্লগস ওভারসিজ রিক্রুটমেন্ট সলিউশনস’, ‘ওএসডি ব্রাদার্স ট্রাভেলস অ্যান্ড ভিসা সার্ভিসেস’ এবং ‘অ্যাডভেঞ্চার ভিসা সার্ভিসেস’ নামক প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর পাশাপাশি রাশিয়া আফ্রিকা ও এশিয়ার মানুষদের ড্রোন কারখানায় কাজ করানোর জন্য প্রলুব্ধ করছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ‘আলাবুগা স্টার্ট প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের তাতারস্তানের অস্ত্র কারখানায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ক্যামেরুনের নাগরিক মিশেল আতেবা এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘এনাঙ্গু হোল্ডিং’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া রাশিয়ার ড্রোন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত পাভেল নিকিতিন (যার কোম্পানি ভিটি-৪০ অ্যাটাক ড্রোন তৈরি করে), চীনের কোম্পানি এম৯ লজিস্টিকস এবং থাইল্যান্ডের কানোপাস ট্রেডিং, তানাক ও সি ২ স্কাই-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট