Image description

গাজার মানবিক সংকটের ছবি তুলে চলতি বছরের পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সাহের আলগোরা। ‘ব্রেকিং নিউজ’ বিভাগে এই সম্মানজনক পুরস্কার জিতে নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটিওয়ার্ল্ড এই তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে কাজ করেন সাহের আলগোরা।

সাহেরের যে প্রতিবেদনটি পুরস্কার জিতেছে, তার শিরোনাম ছিল ‘ট্র্যাপড ইন গাজা : বিটুইন ফায়ার অ্যান্ড ফ্যামিন’ (গাজায় দুর্ভিক্ষ ও হামলার ফাঁদে আটকা পড়া)। প্রতিবেদনে যুদ্ধের কবলে পড়া নিরীহ ও নিরপেক্ষ বেসামরিক মানুষদের দুর্দশার বাস্তবসম্মত চিত্র ফুটে উঠেছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক হামলা শুরু হয়। এই আগ্রাসনের মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে সাহেরের তোলা ছবিগুলোতে। এই ছবিগুলোকে ‘মর্মান্তিক’ ও ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দেন পুলিৎজার প্যানেলের প্রশাসক মারজোরি মিলার।

অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন করে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে রয়টার্স এ পুরস্কার পেয়েছে। ‘বিট রিপোর্টিং’ বিভাগেও এ বছরের পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে রয়টার্স। শিশু ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স এ পুরস্কার পেয়েছে।

এ বছর বিভিন্ন বিভাগে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, কানেটিকাট মিরর, শিকাগো ট্রিবিউন, এপিসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে সাহেরের পুরস্কারও অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পুরস্কার সাংবাদিকতার নোবেল হিসাবেও খ্যাত। ১৯১৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেওয়া হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর এ পুরস্কার ঘোষণা করে। সোমবার এ বছরের পুলিৎজার বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।