Image description

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৩ জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হতাহতের ঘটনা ঘটলো কিয়েভে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এবং মস্কোর পরিকল্পিত যুদ্ধবিরতির তিনদিন আগে। এ খবর জানিয়েছে আলজাজিরা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে রাশিয়ার ভারী গ্লাইড বোমা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ক্রামাতোরস্ক, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝিয়া এবং উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভে আঘাত হেনেছে। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইভান মতে, শুধু জাপোরিঝিয়াতেই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা নাফতোগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেরহি কোরেৎস্কি বলেছেন, রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তিনজন কর্মচারী ও দুইজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এটি ছিল ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত একটি হামলা। এই হামলার ফলে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, সংঘাতপূর্ণ দোনেৎস্ক অঞ্চলে কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে থাকা সর্বশেষ কেন্দ্র ক্রামাতোরস্কে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। পরে তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের শহর দনিপ্রোতেও রাশিয়ার এক হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি এক্সে বলেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে তার দেশের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ ‘চরম ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছে। রাশিয়া যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধবিরতি করতে পারে, এবং এর ফলে যুদ্ধ ও আমাদের পাল্টা জবাব থেমে যাবে। শান্তি প্রয়োজন এবং তা অর্জনের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। ইউক্রেনও এর প্রতিদান দেবে।

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন মঙ্গলবার শেষভাগ থেকে একটি যুদ্ধবিরতি পালন করবে এবং সেই মুহূর্ত থেকে রাশিয়ার পদক্ষেপের উপযুক্ত জবাব দেবে। তবে তিনি এর কোনো শেষ তারিখ উল্লেখ করেননি।

এর একদিন আগে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে শুক্রবার ও শনিবারের জন্য ইউক্রেন যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাশিয়া দেশটিতে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা আরও জানায়, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, তবে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৪টি ড্রোন ১৪টি স্থানে আঘাত হেনেছে।