Image description
উদ্বিগ্ন ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞের যুদ্ধে ফেরার দাবি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক অস্থিরতা ও চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন ইসরায়েলি থিংক-ট্যাংক আইএনএসএস -এর ইরান বিষয়ক গবেষক বেনি সাবতি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনের সব পথ ফুরিয়ে গেছে এবং এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উচিত পুনরায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ বা যুদ্ধের পথে ফিরে যাওয়া।

গবেষক বেনি সাবতি দাবি করেন, প্রতিকূল অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের 'দম্ভ' বা অনমনীয় মানসিকতা তাদের কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে দেবে না। তিনি বলেন, “ইরানের দম্ভ এখন আকাশচুম্বী। তারা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। দিনশেষে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিজে নিজে ছোটে না, আর পারমাণবিক কর্মসূচিও একা একা চলে না। এগুলো পরিচালনা করছে একদল অশুভ মানুষ যারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে।”

সাবতি আরও মন্তব্য করেন যে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি আগের চেয়েও জটিল। তার মতে, ইরানের ধর্মীয় শাসন এখন একটি পুরোদস্তুর সামরিক শাসনে পরিণত হয়েছে, যা আগের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ট্রাম্পের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সাবতির ভাষ্যমতে: “যদি ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ক্ষমতায় না থাকতো এবং ট্রাম্প যদি আলোচনার জন্য কাউকে খুঁজে না বেড়াতেন, তবে আমরা আজ আরও ভালো অবস্থানে থাকতাম। ট্রাম্পের ভুলের কারণেই আমাদের বারবার এই সংঘাতের চক্রে পড়তে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প একদিকে ইরানকে 'মুছে ফেলার' হুমকি দেন, আবার পরক্ষণেই সুর নরম করেন। এই ধরনের স্ববিরোধী অবস্থান ইরানের মনোবল বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে ইরানের হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাবতি বলেন, ইরান বর্তমানে নিজেকে হুমকিগ্রস্ত মনে করছে। তিনি ইরানকে একটি 'ভাইরাস'-এর সাথে তুলনা করে বলেন, শরীর যখন অসুস্থ হয় তখন ভাইরাস যেমন আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, ইরানও ঠিক তা-ই করছে।

সাবতির মতে, ইরানের প্রধান কৌশলগুলো হলো, ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে আক্রমণ করার সাহস পায় না কারণ তারা জানে ইসরায়েল কঠোর জবাব দেবে। তাই তারা বাহরাইন বা ওমানের মতো অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে, যাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর। ইরান সবসময় অস্থিতিশীল পরিবেশ এবং ভঙ্গুর রাষ্ট্রব্যবস্থা খুঁজে বেড়ায়, যেমনটা তারা ১৯৮০-র দশকে লেবাননে করেছিল। ওমান এক সময় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী বন্ধু রাষ্ট্র ছিল, কিন্তু ইরানের বর্তমান দম্ভ এতটাই বেড়েছে যে তারা তাদের সেই বন্ধুকেও ছাড় দিচ্ছে না।

পরিশেষে বেনি সাবতি সতর্ক করে বলেন, কেবল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে পড়ে থাকলেই হবে না, বরং যারা এই ব্যবস্থার পেছনে কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় এই সংকট থেকে উত্তরণের আর কোনো পথ খোলা নেই।