ইরানে আগ্রাসন শুরু করে ডুবোচরে আটকা পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নানাভাবে এই যুদ্ধ শেষ করতে চাইলেও নমনীয় হচ্ছে না তেহরান। শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে চায় আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির দেশ। এমতাবস্থায় মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্য চাচ্ছেন ট্রাম্প, কিন্তু কেউ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে আগ্রহী নয়। এমনকি পশ্চিমা সামরিক জোট-ন্যাটোও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।
ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ন্যাটো মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। একে একে সবাই তার দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।
ট্রাম্পের জন্য নতুন এক ধাক্কা হিসেবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ‘প্রায় সাতটি’ দেশের সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি ন্যাটোকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি মিত্র দেশগুলো এই সামুদ্রিক পথটি উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে—যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—তবে এই জোটকে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যতের’ মুখোমুখি হতে হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল বলেন, ‘আমি দেখছি না যে ন্যাটো এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে পারে। যদি তেমনটি হতো, তবে ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ বন্ধ থাকায় অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ এবং পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই সংকট জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।