চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় নিজ কার্যালয়ে প্রায় ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তাঁর সঙ্গে অবরুদ্ধ রয়েছেন ১১ জন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্ট্রিমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপাচার্য নিজেই।
তিনি বলেন, ‘উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে এভাবে পানি-বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া কেমন আন্দোলন? আমরা অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতিতে আছি। ভেতরের অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে দম আটকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমার সঙ্গে থাকা একটি বড় অংশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মধ্যরাতে বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হয়েছে।’
গুরুতর অসুস্থ একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেই রেখেছেন বলে জানান উপাচার্য। পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ১৮ দিন পর গত সোমবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ছিলেন। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
আন্দোলনকারীরা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন। তবে তিনি কার্যালয় না ছাড়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাইরে অবস্থান নেন তাঁরা। রাতভর চলে বিক্ষোভ।
এদিকে রাতে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অং ছিং মারমা উপাচার্যের কার্যালয়সংলগ্ন ভবনের সামনে গিয়ে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁর প্রস্তাব নাকচ করে দেন। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, উপাচার্য নিজ হাতে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা না দেওয়া বা প্রকাশ্যে পদত্যাগের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে কার্যালয় থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ নিয়োগের পর থেকেই সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও টানা কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। আন্দোলনের মুখে গত ২৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে যোগ দেন নতুন উপাচার্য।