চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই অ্যালামনাই সদস্য। তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ারকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমসহ ভবনটিতে অবস্থানরত অন্যরা এখনো অবরুদ্ধ রয়েছেন।
সোমবার রাত ১টার দিকে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও চিকিৎসাকেন্দ্রের টেকনোলজিস্ট বাসু দেব উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
এর আগে অবরুদ্ধ উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম মুঠোফোনে চিকিৎসককে সেখানে আসার অনুরোধ জানান। পরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট ভবনটিতে প্রবেশ করেন। এ সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিও সেখানে প্রবেশ করেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ারের রক্তচাপের সিস্টোলিক মান ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক মান ১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উপাচার্য ভবন থেকে বের করে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নগরের এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরে ইঞ্জিনিয়ার টিটু মো. সোহানের রক্তচাপ পরীক্ষা করে চিকিৎসক জানান, তার সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৯০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে উপাচার্য ভবনে অবস্থানরত অন্যদেরও স্যালাইন দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপাচার্চ বলেন, ‘আমাদের দুইজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। তাই আমি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছি। এখানে যেহেতু সবাই দীর্ঘ সময় ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন, তাই সবাই অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন।’
গত সোমবার সকালে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। পরে ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে তাকে উপাচার্য ভবন ত্যাগের জন্য আলটিমেটাম দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় তাঁকে সেখানে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ভবনটিতে অবস্থানরত অন্যরা অবরুদ্ধ রয়েছেন।