Image description

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেছেন, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার পরবর্তী আয়োজন নিয়ে আজ ১১ সেপ্টেম্বর ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে গঠিত মূল কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কোন বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব পাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় এখনও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এই ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে একটা মূল কমিটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার জন্য কাজ করে। তো আমরা গত ২০২৫-২৬ সেশনের যে ভর্তি কার্যক্রম, সেটি ৩০ জুলাই তারিখে শেষ করেছি। এর মধ্যে এক মাস অতিক্রম করেছে। পরে আমাদের আর কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আজ শুক্রবার আমাদের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে গঠিত মূল কমিটির বৈঠক ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। তো সেখানে আমরা আসলে সিদ্ধান্ত নেব কোন বিশ্ববিদ্যালয় পরবর্তী ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা করবে। আজ হয়তো সিদ্ধান্ত নেব। পাশাপাশি যারা দায়িত্ব পাবে, তাদের নেতৃত্বে আবার হয়তো সভা হবে। আমরা সেই সভা অনুযায়ী, সভার পরেই আসলে ভর্তি পরীক্ষাটা কবে অনুষ্ঠিত হবে, সেটা নির্ধারণ করব।’

গুচ্ছতে এখানও ২০টা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কোন বিশ্ববিদ্যালয় এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো কথা আমি শুনিনি। সুতরাং মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনা আছে গুচ্ছ পদ্ধতিতে থাকতে হবে। তো আমরা এখানে থাকছি। আর এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেয়নি।— ড. গোলাম রব্বানী, উপাচার্য, নোবিপ্রবি

২০২৬-২৭ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার সময় নিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা আশা করি অচিরেই সিদ্ধান্ত নিতে পারব। আগামীকাল যে মিটিং আছে, মিটিংয়ের পরেই আসলে আমরা জানতে পারব।’

গুচ্ছ পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘এটি আসলে কমন। এতদিনের গুচ্ছ পদ্ধতিতে কিছুটা সুবিধা-অসুবিধা ছিল। কিন্তু এবারে ২০২৫-২৬ এ আমরা আমাদের গুচ্ছ পদ্ধতির যে পরীক্ষাটা, সেটা যথাসময় অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং দ্রুততার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পেরেছি। অলরেডি দেড় মাস তাদের ক্লাস চলেছে। সুতরাং অন্যদের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য নেই। তো এটা আরও যাতে কমিয়ে আনা যায়, সে ব্যবস্থা আমরা করব।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, তাদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার তারিখ ঘোষণা করেছে। তার পরপরই আমরা ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা করছি। এটা করলে আমার মনে হয় যে গ্যাপটা আগে ছিল, সেটা আর থাকবে না।’

গুচ্ছ পদ্ধতি থেকে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গুচ্ছতে এখানও ২০টা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। কোন বিশ্ববিদ্যালয় এখান থেকে বের হয়ে যাওয়ার কোনো কথা আমি শুনিনি। সুতরাং মন্ত্রণালয় ও সরকারের নির্দেশনা আছে গুচ্ছ পদ্ধতিতে থাকতে হবে। তো আমরা এখানে থাকছি। আর এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেয়নি।’

গুচ্ছে থাকা ২০ বিশ্ববিদ্যালয় হলো— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।