Image description

মাত্র ৭৬ জন দিয়ে শুরু। এরপর ধীরে ধীরে হাজার, দশ হাজার, লাখ পেরিয়ে একসময় পৌনে ৩ লাখের কাছাকাছি। এসএসসি পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর গত ২৫ বছরে জিপিএ-৫ পাওয়ার চিত্রে এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। ২০০১ সালে যেখানে মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট জিপিএ-৫ পেয়েছিল, ২০১৪ সালে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১ লাখ ৪২ হাজার। এরপর কয়েক বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখের ঘরে থাকলেও ২০২১ সালে তা বেড়ে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জনে পৌঁছে। আর ২০২২ সালে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে জিপিএ-৫ পায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন। তবে এরপর আবার ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে আসে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে।

এসএসসি পরীক্ষায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালু হয় ২০০১ সালে। এর দুই বছর পর ২০০৩ সালে এই পদ্ধতি চালু হয় এইচএসসি পরীক্ষায়। এর মাধ্যমে দেশের শিক্ষার্থীদের কাছে জিপিএ পদ্ধতি পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে এই পদ্ধতিতে শিক্ষাব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। মূলত নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি ও ফলাফল প্রকাশের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়। ২০০১ সালের আগে ৮০ বা তার বেশি নম্বর পেলে সেটিকে লেটার মার্কস বলা হতো। গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর সর্বোচ্চ ফলাফল হিসেবে চালু হয় জিপিএ-৫।

গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর প্রথম বছর ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ৮৬ হাজার ২২০ জন। ওই বছর পাসের হার ছিল ৩৫ দশমিক ২২ শতাংশ। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি এক লাখ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল প্রায় ১০ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র শূন্য দশমিক ০০৯৬৬৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পেয়েছিল সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট।

পরের বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা বাড়ে। ২০০২ সালে মোট ১০ লাখ ৫ হাজার ৯৩৭ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাসের হার ছিল ৪০ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩২৭ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ।

২০০৩ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ২১ হাজার ২৪ জন। পাসের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৮৯ জনে। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে।

এরপরই জিপিএ-৫ পাওয়ার চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ২০০৪ সাল থেকে চতুর্থ বিষয়সহ নম্বর বণ্টন করা হয়। এর ফলে এক বছরেই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আট গুণ বেড়ে যায়।

২০০৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৮৭ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করে ৪৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পায় ৮ হাজার ৫৯৭ জন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ১ দশমিক ১ শতাংশ সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ১ হাজার ৩৮৯ জন থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ৮ হাজার ৫৯৭ জনে পৌঁছে যায়।

২০০৫ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার ৪২১ জন। পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫ হাজার ৬৩১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০০৬ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ৮৪ হাজার ৮১৫ জন। পাসের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ দশমিক ৪৭ শতাংশে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয় ২৪ হাজার ৩৮৪ জন। মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী এ বছর জিপিএ-৫ পায়।

২০০৭ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ৯২ হাজার ১৬৫ জন। পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ২৫ হাজার ৭৩২ জন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে।

২০০৮ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪৮ হাজার ৫৫৬ জন কমে গেলেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ওই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৬০৯ জন। পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ৪১ হাজার ৯১৭ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০০৯ সালেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ে। ওই বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯১ জন। পাসের হার কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৬৭ দশমিক ৪১ শতাংশে। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪ হাজার ১৭ জন বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ হাজার ৯৩৪ জনে। মোট পরীক্ষার্থীর ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

২০১০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আরও বড় আকারে বাড়ে। আগের বছরের তুলনায় ১৬ হাজার ২০০ জন বেশি শিক্ষার্থী এ বছর জিপিএ-৫ পায়। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ১২ হাজার ৫৭৭ জন। পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ৬২ হাজার ১৩৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

২০১১ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫০ জন। পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পায় ৬২ হাজার ২৮৮ জন। মোট পরীক্ষার্থীর ৬ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে।

২০১২ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪৮ হাজার ১৪৪ জনে। পাসের হার ছিল ৮৬ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬৫ হাজার ২৫২ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯০ জন বেড়ে যায়। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়ে যায় ২৫ হাজার ৯৭৪ জন।

২০১৩ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৪ জন। পাসের হার ছিল ৮৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ৯১ হাজার ২২৬ জন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে।

এর পরের বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আরও বড় লাফ দেয়। ২০১৪ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ৩২ হাজার ৭২৭ জন। পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ওই বছর জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে।

গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর পর ২০১৪ সালেই প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০০১ সালে মাত্র ৭৬ জন দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, মাত্র ১৩ বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জনে পৌঁছে যায়। এটি ছিল জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সময়।

২০১৪ সালের পর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা ওঠানামা করলেও আর লাখের নিচে নামেনি। ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। ২০১৭ সালে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন এবং ২০১৮ সালে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন জিপিএ-৫ পায়। ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মোট পরীক্ষার্থীর ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

২০১৯ সালে জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করে।

২০২০ সালে আবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জনে। এই সংখ্যা ছিল মোট পরীক্ষার্থীর ৫ শতাংশ।

এরপর ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ওই বছর ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৪৪২ জন বেড়ে যায়।

এর পরের বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ঘটে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পায় ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। ২৫ বছরের তথ্যের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ। ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছিল ৮৬ হাজার ২৬২ জন।

তবে ২০২২ সালের এই রেকর্ডের পর থেকেই আবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা নেমে আসে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কমে যায় ৮৬ হাজার ২৪ জন।

২০২৪ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রী ছিল ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন এবং ছাত্র ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন।

সর্বশেষ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রী ছিল ৭৩ হাজার ৬১৬ জন এবং ছাত্র ৬৫ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ ২০২২ সালের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে তিন বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭০ জন।

গত ২৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রথম বড় বাঁক আসে ২০০৪ সালে। চতুর্থ বিষয়সহ নম্বর বণ্টনের কারণে ওই বছর এক লাফে প্রায় আট গুণ বেড়ে যায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০০৩ সালে যেখানে ১ হাজার ৩৮৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল, ২০০৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৫৯৭ জনে।

এরপর ২০০৮ সাল থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০০৮ সালে ৪১ হাজার ৯১৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। মাত্র দুই বছর পর ২০১০ সালে সেই সংখ্যা ৬২ হাজার ১৩৪ জনে পৌঁছে যায়।

২০১৩ ও ২০১৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির গতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০১২ সালে ৬৫ হাজার ২৫২ জন থেকে ২০১৩ সালে তা বেড়ে ৯১ হাজার ২২৬ জন হয়। পরের বছরই সংখ্যাটি ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জনে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ ২০১৩-১৪ সময়কে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় বড় আকারে বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হিসেবে দেখা যায়।

তবে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা যায় ২০২১ ও ২০২২ সালে। ২০২০ সালে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ২০২১ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন। এরপর ২০২২ সালে তা আরও ৮৬ হাজারের বেশি বেড়ে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে পৌঁছে যায়। ২৫ বছরের মধ্যে ২০২২ সালেই সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম জিপিএ-৫ পাওয়া যায় গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর প্রথম বছর ২০০১ সালে। ওই বছর মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। অর্থাৎ ২০০১ সালের সর্বনিম্ন ৭৬ জন থেকে ২০২২ সালের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে পৌঁছাতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ৫৪৭ গুণ।

এই হিসাব শুধু একটি সংখ্যার পরিবর্তন নয়; এসএসসি ফলাফলের কাঠামো কীভাবে বদলেছে, তারও একটি বড় চিত্র তুলে ধরে। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল হাজারের নিচে বা সামান্য ওপরে। ২০০৪ সালে চতুর্থ বিষয়সহ নম্বর বণ্টনের পরিবর্তনের পর সংখ্যাটি এক ধাক্কায় কয়েক হাজারে উঠে আসে। এরপর ২০০৮ সালে তা ৪০ হাজার এবং ২০১০ সালে ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৩ সালে ৯১ হাজার এবং ২০১৪ সালে লাখের ঘর অতিক্রম করে।

এরপর ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোটামুটি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩৫ হাজারের মধ্যে ওঠানামা করেছে। কিন্তু ২০২১ ও ২০২২ সালে এই সংখ্যা আবার ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ২০২২ সালের ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন ছিল আগের সময়ের তুলনায় একেবারেই আলাদা চিত্র।

তবে ২০২২ সালের পর আবার সেই সংখ্যা দ্রুত কমে আসে। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন জিপিএ-৫ পায়। ফলে ২০২২ সালের রেকর্ডের পর মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে।

গত ২৫ বছরের ইতিহাসকে তাই কয়েকটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল ছিল জিপিএ-৫-এর শুরুর সময়, যখন হাতে গোনা শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট পেত। ২০০৪ সাল ছিল প্রথম বড় পরিবর্তনের বছর। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ে এবং ২০১৪ সালে প্রথমবার লাখের ঘর অতিক্রম করে। ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সংখ্যা লাখের আশপাশে স্থিতিশীল ছিল। এরপর ২০২১ ও ২০২২ সালে আবার বড় উল্লম্ফন ঘটে এবং ২০২২ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। এরপর ২০২৩ সাল থেকে আবার নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়।

এই ধারাবাহিকতা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট—জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা শুধু শিক্ষার্থীদের মেধার পরিবর্তনের প্রতিফলন নয়। প্রশ্নপত্রের ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, নম্বর বণ্টন, পরীক্ষার কাঠামো এবং ফল প্রকাশের নীতিও এর ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই বছরের পর বছর জিপিএ-৫-এর সংখ্যা বাড়া বা কমাকে শুধু শিক্ষার্থীদের ভালো বা খারাপ ফলের সূচক হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যায় না।

গত ২৫ বছরের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যও এখানেই। ২০০১ সালে যেখানে মোট পরীক্ষার্থীর মাত্র শূন্য দশমিক ০০৯৬৬৬৫ শতাংশ জিপিএ-৫ পেয়েছিল, ২০১৪ সালে তা প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছে যায়। ২০২২ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জনে ওঠে। এরপর তিন বছরের মধ্যে তা কমে ২০২৫ সালে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জনে।

অর্থাৎ, ৭৬ জন দিয়ে শুরু হওয়া জিপিএ-৫-এর যাত্রা ২৫ বছরে পৌঁছেছে পৌনে ৩ লাখের কাছাকাছি। তবে এই পথটি ছিল সরলরেখার মতো নয়। কখনো দ্রুত উত্থান, কখনো স্থিরতা, আবার কখনো বড় পতন—এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার গত ২৫ বছরের ইতিহাস মূলত এমনই এক উত্থান-পতনের গল্প।