নবীনবরণের মঞ্চে জায়গা হয়েছে শুধু একটি ছাত্র সংগঠনের নেতাদের—এমন অভিযোগ তুলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান মাঝপথে ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, মঞ্চের আসনে বসা ও বক্তব্যের সুযোগ পেয়েছেন কেবল ছাত্রদলের নেতারা, বাদ পড়েছে অন্য সব সংগঠন।
অনুষ্ঠান বর্জনের সময় তারা আয়োজকদের কাছে প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক আয়োজন নাকি কোনো দলীয় কর্মসূচি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মঞ্চে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের সাবেক এক কমিটির নেতাও। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, নবীনবরণ কোনো দলীয় নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান। কিন্তু জুলাই-পূর্ববর্তী সময়ের মতোই একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা আবার দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাসের চেতনার পরিপন্থী।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে যে ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন, প্রশাসনের উচিত ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ আরও দৃঢ় করা। সব সংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহবায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্য দূর করতে, অথচ প্রশাসন আবারও পুরোনো বৈষম্যের চিত্র ফিরিয়ে আনছে। শুধু ছাত্রদলকে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়াকে তিনি স্পষ্ট বৈষম্য আখ্যা দিয়ে বলেন, হয় সব সংগঠনকে সমান সুযোগ দিতে হবে, নয়তো কাউকেই নয়। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.আরফান আলী বলেন, ‘আমাদের গেস্টের তালিকা ছিল অনেক বেশি, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ছাত্রদলের একজন বা দুই জনকে সুযোগ দেব। কারণ এতগুলা গেস্টের শিডিউল না হলে কাভার করা যাবে না। আমরা যেহেতু অন্যানও ছাত্র সংগঠনকেও দাওয়াত দিয়েছিলাম, তারা প্রত্যাশা করছিল তারাও বক্তব্য দেবে।’
সময়ের জন্য সেটা করতে পারেননি দাবি করে তিনি বলেন, ‘এর আগের সব প্রোগ্রামে আমরা তাদের সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু আজকে চারজন ডিন প্রভোস্ট কাউন্সিলসহ বাইরের অতিথিরা ছিলেন। তাই সময়ের অভাবে আমরা তাদের সুযোগ দিতে পারিনি। আমরা সুযোগ দিতে পারলে ভালো হতো। পরবর্তীতে আমরা এগুলো মাথায় রেখেই কাজ করব। কিন্তু এত বড় একটা আয়োজনে ছাত্রদের এরকম আচরণ করা ঠিক হয়নি। পরবর্তীতে যত অনুষ্ঠান হবে, আমরা সবাইকে নিয়ে করার চেষ্টা করব।’