Image description

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ২৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার ২ হাজার ৮৪২টি পদও খালি থাকায় পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে। এ অবস্থায় শূন্য পদ পূরণে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ২০ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক স্তরে পাঠদান হয়। এর মধ্যে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭০২টি। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকার অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৫ হাজার ২৯৩টি। এর মধ্যে ২ হাজার ৮৪২টি পদ শূন্য, অর্থাৎ ১৮ শতাংশের বেশি পদে শিক্ষক নেই।

বর্তমান জনবলকাঠামো পর্যাপ্ত কি না, সে প্রশ্নও রয়েছে। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ৭২৮ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এই নিয়োগ সম্পন্ন হলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পদ শূন্যই থেকে যাবে।

২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:৩০-এ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে এখনো গড়ে প্রতি ৩৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক রয়েছেন। যদিও বিদ্যালয়ভেদে কোথাও কোথাও এই অনুপাত আরও বেশি।

শিক্ষকসংকটের পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসনেও নেতৃত্বের সংকট স্পষ্ট। দেশের ৭০২টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৩৮৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষকের আরও ২৪৯টি পদ খালি রয়েছে। 

এদিকে জাতীয় সংসদে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য সরকার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গত ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সংসদে সিলেট-৫ আসনের খিলাফত মজলিসের সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসানের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ২ হাজার ৮৪২টি সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট নিরসনে শূন্য পদের তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ তথ্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো যায়। দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষকসংকট নিরসনে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে শূন্য পদ পূরণ করা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে শূন্য পদ পূরণ করা সম্ভব হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষকসংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে। 

মাদ্রাসাশিক্ষা বিষয়ে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে তিনটি সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা এবং ৮ হাজার ২২৯টি এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা রয়েছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় ১১৪টি পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসায় সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৩৫৪টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্টের ১ হাজার ৭৭৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ এনটিআরসিএর মাধ্যমে পূরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।