কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক এক ছাত্রীর পা বেঁধে রাখার অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ফেসবুক পোস্টে নিজেকে উম্মে সালমা পরিচয় দিয়ে ওই ছাত্রী তার পরিবারের বিরুদ্ধে মারধর এবং জোরপূর্বক মানসিক রোগী বানানোর অভিযোগ করেছেন।
যদিও পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, উম্মে সালমার মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী সালমার দাবি, তিনি ঢাবির তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩১তম ব্যাচের ছাত্রী এবং ইতোমধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। পড়াশোনার সুবিধার্থে তিনি ঢাকায় নীলক্ষেতের কর্মজীবী নারী হোস্টেলে থেকে লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করেন।
সালমার অভিযোগ, তার পরিবার চায় না তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। এ কারণে কোনো কারণ ছাড়াই তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ঈদের পর ঢাকায় ফিরতে চাইলে তার দুই পা বেঁধে রাখা হয়। এছাড়া তাকে জোরপূর্বক মানসিক রোগের ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, তার বড় ভাই তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং পরিবারের ভেতরে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় তিনি জেনে যাওয়ায় তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নিরাপদে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার জন্য তিনি সহায়তা কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিফাতুল মাজদার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই ছাত্রী মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার চিকিৎসা চলছে। এ সংক্রান্ত কাগজপত্রও পুলিশকে দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই ছাত্রী নিজেই থানায় অবস্থান করছেন পুলিশের সঙ্গে তার কথাবার্তা স্বাভাবিক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।
ছাত্রীর বক্তব্য অসংলগ্ন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ওষুধ সেবনের পর তার আচরণ স্বাভাবিক থাকে, তবে ওষুধ না খেলে আচরণ পরিবর্তিত হয়ে উগ্র হয়ে ওঠে।
ওসি সিফাতুল মাজদার জানান, ছাত্রীর শরীরে মারধরের কোনো স্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের থানায় ডেকে আনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।