ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের প্রতিবাদে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে এদিন সন্ধ্যার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কয়েকজন নেতা এবং অমর একুশে হল সংসদের নেতারা প্রভোস্টকে তালাবদ্ধ করে পদত্যাগের দাবি জানান।
তবে অবরুদ্ধ অবস্থায়ও প্রভোস্ট পদত্যাগে রাজি হননি।
পরে ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন হলের নেতারা হল অফিসের সামনে জড়ো হন। এ সময় ছাত্রদলের নেতারাও হল অফিসের সামনে জড়ো হন।
তারাও তদন্ত সাপেক্ষে হলের প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
তবে ছাত্রদল নেতারা দাবি করেন, ছাত্রশিবিরের নেতারা বিভিন্ন হল থেকে নেতাকর্মীদের এনে হলে মব করতে চাইছেন।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির নেতারা অনলাইনে অব্যাহতভাবে ‘ছাত্রদল নির্যাতক প্রভোস্টের পক্ষ নিয়েছে’ এমন বক্তব্য প্রচার করছেন।
এ সময় ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন হলের নেতাদের ফজলুল হক মুসলিম হলে দেখা যায়। ছাত্রশিবিরের অমর একুশে হলের জিএস ওবায়দুর রহমান হাসিবকে একটি ছোট বস্তায় কয়েক জোড়া জুতা নিয়ে আসতে দেখা যায়।
এদিকে ঘটনার বাগবিতণ্ডার মধ্যেই দুপক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসান আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের দ্বন্দ্বে বিচার না পাওয়ার শঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইব্রাহীম।
তিনি বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা প্রথমে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছিলেন। ফুটেজ দেখলেই স্পষ্ট হয়ে যেত, প্রভোস্ট কীভাবে দরজা বন্ধ করে তাকে হেনস্তা করেছেন। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ২টা পেরিয়ে গেলেও ফুটেজ দেখানো হয়নি।
ইব্রাহীমের অভিযোগ, এরপর ঘটনাটি ‘চিরাচরিত প্রথা’ অনুযায়ী ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। তার দাবি, উভয় পক্ষই অন্যান্য হল থেকে নিজেদের লোকজন নিয়ে আসে। এর মধ্যে তিনি নিজেই বিচারবঞ্চিত হচ্ছেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ছাত্রশিবির ছাত্রদলের বিরুদ্ধে প্রভোস্টকে বাঁচিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করছে। অন্যদিকে ছাত্রদল ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিচারের দাবি এড়িয়ে মব করার অভিযোগ তুলেছে।
এ ঘটনার পর রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় হল প্রাধ্যক্ষকে হল অফিস থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।