জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সালাম-বরকত হলে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার বিনিময়ে সার্ভিস প্রোভাইডারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাসুদ রানা মিষ্টুর বিরুদ্ধে। তিনি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে ওই হলের ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
হলের আবাসিক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, 'বিজয়' নেট প্রোভাইডার বন্ধ করার ইস্যু নিয়ে গ্রুপে আলোচনা করা উচিত ছিল। কারণ আমরা যারা গ্রাহক, তাদের অনেকেই বিল দিয়ে ফেলেছি। এখন হুট করে লাইন বন্ধ রাখার ফলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পরে শুনেছি চাঁদা দাবির কথা।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার ‘বিজয় নেট'র কর্মী জীবন বলেন, কিছুদিন আগে নেট চলাকালে হল সংসদের জিএস মাসুদ রানা মিষ্টু আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। না দিলে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে হেড অফিসে বলে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিই। এরপর শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের পর আমরা কিছুটা আশ্বস্ত হই এবং পুনরায় সংযোগ চালু করেছি।
জীবন বলেন, আমি হলে কাজ করার সময় একজন শিক্ষার্থী জানায়, হলে ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখতে বাৎসরিক ২৫ হাজার টাকা এবং প্রতি মাসে ১০-১৫% টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে না পারলে হলে ব্যবসা করা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন তিনি। বলা হয়, আগে কীভাবে নেটের ব্যবসা চলতো জানো না? দল এখন ক্ষমতায়—কীভাবে ব্যবসা করতে হবে সেটা বুঝতে হবে। এই কথা তুমি আর আমি ছাড়া হলের আর কেউ যেন না জানতে পারে। পরে আমি বিষয়টি কোম্পানিকে জানাই এবং ওই হলের দায়িত্ব ছেড়ে দেই।
‘বিজয় নেট’ প্রোভাইডারের আরেক কর্মী শুভ বলেন, আমরা কোম্পানিতে চাকরি করি এবং বেতন পাই। অফিসে যখন টাকা দাবির ঘটনা বলি, অফিস থেকে সরাসরি আমাদের সব সংযোগ বন্ধ করে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ফোনের কারণে বিষয়টি আমরা সবাইকে জানাতে বাধ্য হই।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় জিজ্ঞেস করলে তিনি শহীদ সালাম বরকত হল সংসদের জিএস মাসুদ রানা মিষ্টুর নাম উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে হল সংসদের জিএস মাসুদ রানা মিষ্টু বলেন, চাঁদা নেওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়। তারা কোনও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র বা চুক্তি না করায় তিন মাসের মধ্যে বিল পরিশোধ করে চলে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা এখনও যায়নি। আমি বলেছি, যদি বিল নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটার সমাধান করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা দিয়ে বিষয়টি শেষ করতে হবে। তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে হল সংসদের ভিপি মারুফ হোসেন বলেন, আমি চাঁদা দাবির বিষয়ে আগে কিছু জানতাম না। বিষয়টি জানার পর বিজয় নেটের এরিয়া ম্যানেজার ও জিএস মিষ্টু ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা একসঙ্গে বসে বিষয়টা সমাধান করবো।
শহীদ সালাম-বরকত হলের প্রভোস্ট এবং হল সংসদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, আমি শুনেছি শিক্ষার্থীদের গ্রুপে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আমাকে কেউ সরাসরি অবগত বা অভিযোগ দেয়নি। ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।