Image description

মহাকাব্য ‘রামায়ণ’ অবলম্বনে নির্মিত বহুল আলোচিত সিনেমার নতুন গান ‘মঙ্গল রং’ প্রকাশের পর থেকেই সুরের ধরন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অস্কারজয়ী সংগীত পরিচালক এ আর রহমানের সুরে অরিজিৎ সিং ও শ্রেয়া ঘোষালের গাওয়া গানটিতে কাওয়ালির প্রভাব খুঁজে পেয়েছেন শ্রোতাদের একাংশ। তাদের প্রশ্ন, রাম ও সীতার প্রেম, বিয়ে এবং একসঙ্গে পথচলার কাহিনি নিয়ে তৈরি গানে কাওয়ালির সুর কতটা মানানসই?

নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’ সিনেমার গানটি রবিবার প্রকাশ করা হয়। গান প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ আর রহমানের সংগীতায়োজন নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। কারও মতে, মহাকাব্যের আবহের সঙ্গে গানের সুরের ধরন ঠিক মেলেনি। কেউ আবার রহমানের পুরোনো কাজের প্রভাব খুঁজে পেয়েছেন নতুন গানটিতে।

এক শ্রোতা মন্তব্য করেছেন, বাল্মীকির ‘রামায়ণ’-এর মতো আখ্যানের সঙ্গে সুফি কাওয়ালির সুরের সংযোগ নিয়ে নির্মাতাদের আরও ভাবা উচিত ছিল। তার অভিযোগ, বিপুল বাজেটের ছবিতে একই ধরনের সুর বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেক শ্রোতা ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘রামায়ণে কাওয়ালি! এ আর রহমান আসলে হতাশ করতে কখনও ভোলেন না!’

 

সমালোচনার আরেকটি দিক রহমানের সুরের পুনর্ব্যবহার নিয়ে। এক শ্রোতার দাবি, ‘রামায়ণ’-এর জন্য রহমান তার পুরোনো একটি তামিল কাওয়ালির সুর আবার ব্যবহার করেছেন। অন্য একজনের মতে, গানটিতে রহমানের আগের কাজ ‘রকস্টার’ ও ‘যোধা আকবর’-এর প্রভাব রয়েছে। তাঁর কানে এসেছে ‘কুন ফায়া কুন’ গানের সুরের স্মৃতিও।

শুধু ‘মঙ্গল রং’ নয়, সিনেমাটির অন্য গান নিয়েও শ্রোতাদের একাংশের অসন্তোষ রয়েছে। তাদের কারও মতে, গানগুলোর সুরে প্রত্যাশিত উদ্দীপনা নেই। কেউ আবার সংস্কৃত ভাষায় গান ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে এসব প্রতিক্রিয়া মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত শ্রোতাদের ব্যক্তিগত মতামত।

 

সমালোচনার মধ্যেই সিনেমাটির সংগীত নিয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন এ আর রহমান। সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘রামায়ণ’-এর মতো মহাকাব্য অবলম্বনে নির্মিত সিনেমার সংগীত তৈরির সুযোগ তার কাছে সম্মানের, একই সঙ্গে এটি বড় দায়িত্বেরও।

রহমানের ভাষ্য, এই প্রকল্প তাকে নতুন সৃজনশীল পথে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে। আগের সফল কাজের ওপর নির্ভর করে একই জায়গায় আটকে থাকা তার উদ্দেশ্য নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি স্থবির হয়ে থাকতে পারেন না। আপনাকে প্রবাহিত নদীর মতো হতে হবে।’

‘রামায়ণ’-এর সংগীতায়োজনে রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন হলিউডের সংগীত পরিচালক হ্যান্স জিমার। রহমান জানান, তাদের একসঙ্গে কাজ করার আলোচনা শুরু হয়েছিল প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে, ‘স্লামডগ মিলিয়নিয়ার’-এর জন্য অস্কার জয়ের পরপরই। তবে তখন তিনি কিছুটা বিরতিতে ছিলেন।

গান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রহমান বলেন, তিনি আলোচনা সম্পর্কে জানেন, তবে সেগুলো নিয়মিত অনুসরণ করেন না। তার ভাষায়, ‘আমরা এত কাজ, বাছাই, ভাবনা ও বারবার পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে যাই যে প্রতিক্রিয়া দেখার মতো শক্তি আর অবশিষ্ট থাকে না।’

রহমান আরও জানান, তার ছেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে মানুষের মন্তব্যের কথা বলেন। কখনও কেউ সমালোচনা করছেন, আবার পরদিন তারাই নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছেন। এসব নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না তিনি। রহমান বলেন, ‘ঠিক আছে, আমি আন্তরিকতার সঙ্গে আমার কাজ করেছি। আশা করি, মানুষ এটি উদযাপন করবে।’

Loading video

নামিত মালহোত্রা প্রযোজিত ‘রামায়ণ’-এ রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, সীতার চরিত্রে সাই পল্লবী, লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবে এবং রাবণের চরিত্রে যশ। দুই পর্বে নির্মিত সিনেমাটির প্রথম পর্ব ২০২৬ সালের ৫ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

মহাকাব্যনির্ভর এই সিনেমার সংগীত নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে এখন দুটি বিষয়—প্রাচীন আখ্যানের সঙ্গে আধুনিক সংগীতের মেলবন্ধন এবং পরিচিত সুরের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু তৈরির প্রত্যাশা। রহমান অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি নিজের কাজ আন্তরিকতার সঙ্গেই করেছেন। শেষ পর্যন্ত গানগুলো দর্শকের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, তার উত্তর মিলবে সিনেমা মুক্তির পরই।