Image description

জাহিদ হাসান। তিন দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয়ের সঙ্গে তাঁর পথচলা। মঞ্চ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও ওয়েব–সব মাধ্যমেই কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর। মাঝে অভিনয় কম  দেখা গেলেও সম্প্রতি নাটকেও ফিরেছেন তিনি। নির্মাতা মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় ‘পথহারা মন’ এ অভিনয় করেছেন বাবার চরিত্রে। দীর্ঘ আট বছর পর রাজের সঙ্গে তাঁর এই কাজ নিয়ে দারুণ প্রশংসাও পেয়েছেন। সাম্প্রতিক  অভিনয়, নতুন প্রজন্ম, দর্শকের ভালোবাসা পাওয়া এবং নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য মামুন

দীর্ঘদিন পর ‘পথহারা মন’ নাটক দিয়ে ফিরলেন। প্রশংসাও পেলেন। কেমন লাগলো ?
দর্শকরা আমাকে ভালোবাসেন। আমিও তাদের ভালোবাসি, সম্মান করি। যখনই কোনো ভালো গল্পে, ভালো চরিত্রে অভিনয় করি, তাদের ভালোবাসা আমাকে আপ্লুত করে। ‘পথহারা মন’ দেখে অনেক দর্শক কেঁদেছেন-এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমাদের বড় প্রাপ্তি তো দর্শকদের ভালো লাগাটাই। অনেক খুশি হয়েছি। 
এই যে দারুণ প্রশংসা পেলেন। এ ভালোবাসার জন্য হলেও তো অভিনয়টা নিয়মিত করা উচিত। নাটকটিতে আমি বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছি। শুরুতে মনে হয়েছে, আমি হয়তো অল্প কিছু দৃশ্যে অভিনয় করেছি। কিন্তু পরে বুঝলাম, নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি আমার। বাবার চরিত্রটিই এখানে প্রধান। বাবাকে ঘিরেই এতকিছু।  আসলে আমি তো অভিনয় করতেই চাই, কিন্তু গল্প ও চরিত্র পছন্দ হতে হবে। আমাকে সেই রকম গল্প দিতে হবে, সেই রকম চরিত্র দিতে হবে। না হলে কিভাবে নিয়মিত হবে বলুন?

রাজের সঙ্গে এত দীর্ঘ বিরতির পর আবার কাজ করার ক্ষেত্রে গল্পটিই কি প্রধান কারণ?
অবশ্যই গল্প ও চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ। আমি শুধু কাজ করার জন্য কাজ করতে চাই না। একটা চরিত্র আমাকে টানতে হবে। গল্পের মধ্যে কিছু থাকতে হবে। পরিচালক কী বলতে চাইছেন, সেটাও বুঝতে হবে। আমি সারাজীবন অভিনয় করেছি, সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি অভিনয়। তাই এখনও যখন কাজ করি, চাই কাজটা যেন ভালো হয়।

‘উৎসব’ ও ‘আমলনামা’ দিয়ে গত বছর আপনাকে নতুন করে আলোচনায় পাওয়া গেছে। অনেকে এটাকে আপনার ‘দ্বিতীয় ইনিংস’ বলছেন। আপনি কী বলেন?
আমি তো বলব, সব সময় আমার ইনিংস ছিল। সমস্যা হচ্ছে, আমাকে মাঠেই ডাকেনি। আমি বরাবরই ফর্মে ছিলাম, না ডাকলে খেলব কীভাবে। না খেলতে পারলে মানুষ জানবে কীভাবে, কতটা ভালো কিংবা খারাপ খেলি। এখন কোচ আর অধিনায়ক যদি মাঠে না নামায়, কীভাবে কী!

সময় বদলেছে, বদলেছে কাজের ধরনও। এখন কাজ করতে চাইলে কোন দিকটায় বেশি বিবেচনায় নেবেন ?
অবশ্যই ভালো গল্প। আমাকে যদি সম্মান দিয়ে কেউ ডাকে, তখন আমার সব শক্তি ও সততা দিয়ে কাজটা করি। ভবিষ্যতেও করার চেষ্টা করব। শুধু অনেক কাজ করলেই তো হবে না, কাজের মানটাও গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় এই মানের দিকে বিবেচনা করেই তো কাজ করেছি। 

এখনকার সময়ে আপনার কাছে ভালো গল্প বলতে কী বোঝায়?
যে গল্প মানুষের জীবনের সঙ্গে কথা বলে, সেটাই ভালো গল্প। বড় আয়োজন থাকলেই ভালো গল্প হবে-এমন নয়। একটা ছোট গল্পও অনেক বড় কথা বলতে পারে। দর্শক নিজের জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে পান বলেই গল্পটা তাদের স্পর্শ করে।

এখন টেলিভিশন নাটকের চেয়ে ওটিটির দিকে সবার কাজের আগ্রহ বেশি লক্ষণীয়। কারণ কী?  
ওটিটির কাজগুলো বেশ যত্ন ও আন্তরিকতা নিয়ে করা হয়। সময় নিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকে। মানের ক্ষেত্রেও পরিচালক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুব একটা আপস করে না। তাই ওটিটিতে কাজ করার প্রতি আমার আগ্রহ আছে।

নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন কি অভিজ্ঞতা হচ্ছে?
বলতে পারেন নতুন শেখার অভিজ্ঞতা হচ্ছে। অভিনয় শেখার শেষ নেই। একজন শিল্পী যত দিন অভিনয় করবেন, তত দিন শিখবেন। নতুনরা নতুনভাবে চিন্তা করে, নতুনভাবে গল্প দেখে। তাদের সঙ্গে কাজ করলে নিজের মধ্যেও নতুন কিছু আসে। তবে অভিজ্ঞতারও একটা মূল্য আছে। আমার মনে হয়, দুই প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করলে কাজটা আরও সমৃদ্ধ হয়।