মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ গেলো শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই তার মা বাদি হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, অভিযুক্ত হাসিবুরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, রিধির মা বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় তার প্রেমিক হাসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার দিন হাসিবুর রিধিকে দেখতে তার বাসায় এসেছিলেন। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
রিধিকা রিধির মা মনি বেগমের অভিযোগ
ঘটনার দিন বান্ধবীদের সঙ্গে বাসায় আড্ডা দিচ্ছিলেন তার মেয়ে লিনা আক্তার (রিধি)। লিনা আক্তারের (২৬) সঙ্গে হাসিবুরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হাসিবুরের সঙ্গে তার মেয়ের বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদ হতো। তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন হাসিবুর। এই যন্ত্রণায় তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। গত (১৪ আগস্ট) তার মেয়ে সারাদিন বাসায় তার বান্ধবী ইশান ও জান্নাতকে সঙ্গে নিয়ে ছিলেন। সেদিন ১১টার দিকে রাতের খাওয়া শেষে বান্ধুবীরা মিলে গল্প করেন। এর মাঝেই হাসিবুরের সঙ্গে ফোনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়। তখন তার মেয়ে লিনা আক্তার তার বান্ধুবীদের ড্রইং রুমে গিয়ে ঘুমাতে বলেন। এসময় হাসিবুরের সঙ্গে তার মেয়ে লিনা ভিডিও কলে কথা বলছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হাসিবুর তার মেয়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে ডাকাডাকি করলে তার বান্ধুবীরা দরজা খুলে দেন। তখন হাসিবুর জানান তার কথায় রাগ করে লিনা আক্তার ফাঁস দিয়েছেন। পরে তাড়াহুড়ো করে লিনা আক্তারের রুমের ভেতরে গিয়ে তাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে তার মেয়ের বান্ধবী ও হাসিবুর তাকে দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাড়ে ৬টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি মামলার অভিযোগে বলেন, আত্মহত্যার মতো কোনো মানসিক দুর্বলতা লিনার ছিল না। হাসিবুর তার মেয়েকে মানসিকভাবে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করতেন। হাসিবুর তার মেয়েকে একাধিকবার আত্মহত্যার প্ররোচণাও দেন। ঘটনার দিনও লিনা মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে (১৫ আগস্ট) ভোর ৫টার পর গলায় ফাঁস লাগানোর প্রস্তুতি নেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও কলে হাসিবুরের সঙ্গে কথা বলেন। তখন হাসিবুরের প্ররোচণায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে তার ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এদিকে, রোববার (১৬ আগস্ট) আসামি হাসিবুরকে আদালতে তুলে ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুত কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং এ পর্যন্ত পাওয়া তদন্তের তথ্য-উপাত্তে বাদীর অভিযোগের সমর্থনে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসিবুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। জামিনে মুক্তি পেলে হাসিবুর পালিয়ে যেতে পারেন বলেও শঙ্কার কথা আবেদনে জানায় পুলিশ।