গত ৮ আগস্ট প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদকে নিয়ে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূর। সেখানে তিনি জানান, কোনও অসৎ উদ্দেশ্য বা প্ররোচনায় রিজভী মিথ্যা তার নামে মিথ্যা ছড়াচ্ছে।
শাবনূরের ফেসবুক পোস্টের পরের দিনই গ্রেফতার হয়েছেন সালমান হত্যা মামলার আসামি অভিনেতা ডন। এ গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সালমান হত্যা মামলা নতুন মোড় নিয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করছেন।
ররিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সালমানের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক চলছে। কেউ বলছেন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, কারও দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।
সালমানের মৃত্যুর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে আছে বরাবরই শাবনূরের নাম। সালমান শাহ হত্যা মামলার রাজসাক্ষী রিজভী বলেছিলেন অভিনেত্রী ‘সালমান শাহকে শাবনূর ব্ল্যাকমেইল করতেন, এবং তার আত্মহত্যার জন্য শাবনূরকেই দায়ী করেছেন তিনি।’
এছাড়া বিভিন্ন সময় সালমানের মা নীলা চৌধুরীও ছেলের হত্যার জন্য শাবনূরকে দায়ী করেছেন। সালমান-শাবনূরের মধ্যে প্রেম ছিল সেটিও কেউ কেউ বলেন।
তবে এটি সব সময় অস্বীকার করেছেন শাবনূর। তিনি বলেন, ‘‘সালমান আমাকে বোনের মতোই দেখতো। আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনও চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’’
এবার প্রয়াত অভিনেতার মা নিজেও বললেন শাবনূরের সঙ্গে সালমানের প্রেম ছিল না।
নীলা চৌধুরী বলেন, ‘সালমানের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে শাবনূর সবকিছু জানতো। তবে শাবনূরের সঙ্গে আমার ছেলের কোনও প্রেম ছিল না। শাবনূর আমার ছেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। শাবনূরকে চেষ্টা করতো সাহায্য করতে। তার কোনও বোন ছিল না, সে বোনের মতোই দেখতো তাকে। স্নেহ করতো।’
নীলা চৌধুরীর এই কথায় শাবনুরের ভক্তরা সহমত প্রকাশ করছেন। তাদের প্রিয় অভিনেত্রীকে নিয়ে যে গুজব ছিল সেটি মিথ্যে বলেই তারা দাবি করছেন।
এদিকে সালমানের ভক্তদের দাবি, অন্য আসামিদের গ্রেফতার করলেই অভিনেতার মৃত্যুর আসল সত্যটা বের হয়ে আসবে। তারা প্রিয় নায়কের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান বলেও জানান।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মারা যান।