গত কয়েক দিন ধরে নেট দুনিয়ায় ‘রাগ করলা’ শিরোনামের একটি ছোট ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তবে নেটিজেনরা যাকে কবিরাজ বলে আখ্যায়িত করছেন, তিনি মূলত একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার নাম ঈমান আলী। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় বসবাস করেন। প্রায় দুই যুগ আগে তিনি লালমনিরহাট থেকে গাজীপুরে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। গত মঙ্গলবারও তিনি শুটিংয়ের কাজে কালিয়াকৈর উপজেলার একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুক, টিকটক কিংবা ইউটিউবÑ সব প্ল্যাটফর্মেই এখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে একটি সংলাপÑ ‘রাগ করলা!’ যারা তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, তারা অনেকেই তাকে কবিরাজ বলে ভুল করছেন। তবে বাস্তবে ভাইরাল হওয়া এই যুবক একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত থেকে সামাজিক সচেতনতামূলক এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিওতে নিয়মিত অভিনয় করে থাকেন।
সম্প্রতি ফেসবুক ও ইউটিউব কনটেন্টে ঈমান আলী ‘কবিরাজ’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। সেখানে তার বাচনভঙ্গি, চোখের ইশারা এবং বিশেষ ভঙ্গিমায় বলা ‘রাগ করলা’, ‘কথা ঠিক না বেঠিক’Ñ এই সংলাপগুলো দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। ৩ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘দানবের মতো ছেলেটির হাত দেখে কবিরাজ ভবিষ্যৎ বলে দিল...’।
ঈমান আলী জানান, একসময় তিনি গুলিস্তানে রিকশা চালাতেন। একদিন সেখানে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যিনি বিভিন্ন গাছপালা ও তাবিজ জাতীয় জিনিস বিক্রি করতেন। কৌতূহলবশত তিনি লোকটির পাশে দাঁড়ালে ওই ব্যক্তি প্রথমে তার কাছে ১০ টাকা চান। পরে ধাপে ধাপে ৫০ টাকা এবং শেষ পর্যন্ত তার কাছে থাকা ২০০ টাকা নিয়ে নেন।
ঈমান আলীর ভাষ্য অনুযায়ী, তখন তার কাছে মোট ২৩০ টাকা ছিল এবং সেই পুরো টাকাই তিনি হারান। পরে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ঈমান আলী বলেন, সেই অভিজ্ঞতাটি তার মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। এরপর থেকেই তিনি ভাবতে থাকেন, মানুষকে কীভাবে এসব ভণ্ড কবিরাজ প্রতারণা করেÑ তা নিয়ে একটি শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি করবেন।
তার দাবি, সমাজে এমন কিছু প্রতারক ও ভণ্ড কবিরাজ রয়েছে, যারা সাধারণ ও সরল মানুষকে নানা কথায় প্রভাবিত করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মূলত সেই প্রতারণার চিত্রকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয়েছিল।