দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর এবার নতুন বার্তা দিলেন টালিউড অভিনেতা ও সংসদ সদস্য দেব। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভবিষ্যতে রাজনীতির চেয়ে অভিনয় ও চলচ্চিত্র নিয়েই বেশি সময় কাটাতে চান।
তৃণমূলের হাত ধরে ২০১৪ সালে রাজনীতিতে নাম লেখান টালিউড সুপারস্টার দেব। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে সাংসদ হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন এ অভিনেতা।
বুধবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিজেপির জয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানান সাবেক এই সাংসদ।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দেব লিখেছেন, ‘বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জনাদেশ পাওয়ায় বিজেপিকে অভিনন্দন। আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, সরকার আমাদের রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর যেন শোনা হয়, তা নিশ্চিত করবে।’
এ ছাড়া চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন দেব।
তিনি লেখেন, ‘জনজীবন ও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একজন হিসেবে, আমি নতুন সরকারকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করব, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা ও বিভাজনের সংস্কৃতিকে অতীতের বিষয় করে তুলে ঐক্য ও শৈল্পিক স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে। চলচ্চিত্র বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচয়, এবং এর বিকাশ কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্মিলিত অগ্রগতির মাধ্যমেই সম্ভব।’
নিজের এলাকা ঘাটালের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার কথায়, ‘আমি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও নতুন সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি, যা ঘাটালের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং প্রয়োজনীয়তা। রাজনীতির ঊর্ধ্বে, এটি জীবন রক্ষা, জীবিকা সুরক্ষিত করা এবং ঘাটালের মানুষকে তাদের প্রাপ্য ভবিষ্যৎ দেওয়ার বিষয়।’
এছাড়া আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের পরাজয় তাকে কষ্ট দিলেও, রাজ্যে এই বদলকে দেব স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের ওপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে।’
এরপর তিনি বললেন, ‘রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।’
তার আশ্বাস, ‘বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল। যিনি বা যারা ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময় তাঁদের পাশে।’
তবে তৃণমূলের পরাজয়ের পর ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিও ঘিরে ভক্তদের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই তাকে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার চান, তিনি যেন শুধু সিনেমাতেই মন দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়ার বড় অংশই ‘রাজনীতিক দেব’-কে ঘিরে, ‘অভিনেতা দেব’-কে নয়। কারণ অভিনয়জীবনে এখনো দর্শকদের কাছে সমান জনপ্রিয় ও প্রিয় তিনি।
শীর্ষনিউজ