অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার ও সামিট আয়োজনের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ দেখা গেছে। এসব আয়োজনে বিনিয়োগকারীদের ভালো সাড়া পাওয়ার কথাও প্রচার করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। যদিও বাস্তবে এসবের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বেসরকারি খাতে ৬৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকার দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব বিডায় নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৮ শতাংশ কম। এ সময়ে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সংখ্যাও কমেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাতারাতি পরিস্থিতি বদলানোর উচ্চাশা না দেখিয়ে, নিজেদের ঢোল না পিটিয়ে বরং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো সমাধানে কাজ করাটা অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল।
বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক ধাপ নিবন্ধন। এরপর বিনিয়োগকারীরা সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নেয়া, অর্থায়ন সংগ্রহ, অবকাঠামো নির্মাণসহ প্রস্তাবিত বিনিয়োগ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। এক্ষেত্রে নিবন্ধনের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীর আগ্রহের বিষয়টি প্রতিফলিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫-এর তথ্য বলছে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিডার কাছে ৯৭০টি প্রকল্পে ৬৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকার দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে। আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪টি প্রকল্পে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছিল। এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ।
কভিডকালের চেয়েও গত অর্থবছরে দেশে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯০৫টি প্রকল্পে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২২৬ কোটি টাকার দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করা হয়েছিল। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ অর্থবছরে বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছিল প্রায় ১২ শতাংশ। এর পরের ২০২০-২১ অর্থবছরে কভিডকালে প্রকল্পের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৯৫টি হলেও টাকার অংকে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন প্রায় ৩৮ শতাংশ কমে ৬৫ হাজার ৫৬৬ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রকল্পের সংখ্যা ও বিনিয়োগ নিবন্ধনের পরিমাণ দুটোই বাড়ে। আলোচ্য অর্থবছরে ১ হাজার ১২৪টি প্রকল্পে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ১৬টি প্রকল্পে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করা হয়েছিল। আলোচ্য অর্থবছরে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমেছিল প্রায় ১৯ শতাংশ।
গত অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করা হয়েছে তার মধ্যে ৮০৯টি প্রকল্পে ৫২ হাজার ৩৫ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩২ শতাংশ এসেছে সেবা খাতে। তাছাড়া এ সময়ে কেমিক্যাল খাতে ১৭ শতাংশ, বস্ত্র খাতে ১৪ ও প্রকৌশল খাতে ১০ শতাংশ বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬১টি প্রকল্পে মোট ১৪ হাজার ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন করেছেন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা। এ সময়ে নিবন্ধিত বিদেশী বিনিয়োগের ৫৫ শতাংশই এসেছে কেমিক্যাল খাতে। অন্যান্য খাতের মধ্যে আলোচ্য অর্থবছরে প্রকৌশল খাতে ২৫ শতাংশ, সেবা খাতে ৮ ও বস্ত্র খাতে ৫ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

দেশে যে তিনটি উপখাতে বিদেশী বিনিয়োগের হিসাব করা হয় তার মধ্যে রিইনভেস্টেড আর্নিংস ও আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের অংশটিই বড় থাকে। তবে বিদেশী বিনিয়োগের প্রকৃত প্রতিফলন পাওয়া যায় মূলত ইকুইটি ক্যাপিটালে, যা হলো নতুন মূলধন। বাংলাদেশে নিয়মিতভাবে নতুন বিদেশী বিনিয়োগ না আসায় এ হিস্যা কমই থাকে। গত অর্থবছরে বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পাশাপাশি ইকুইটি মূলধনের প্রবাহও কমেছে। আলোচ্য অর্থবছরে ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার ইকুইটি মূলধন দেশে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ কম।
এফডিআই স্টক বিবেচনায় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগের উৎস দেশ চীন। প্রধান উপদেষ্টা বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন গত বছরের মার্চে। পরের মাসে বাংলাদেশে আয়োজিত বিনিয়োগ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চীনা বিনিয়োগকারী। এরপর বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান দেশটিতে সফরে যান জুলাইয়ে। ওই সময় তিনি সাংহাইয়ে বিডার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেন। সেখানে বাংলাদেশ-চায়না ইনভেস্টমেন্ট সেমিনার ২০২৫-এ প্রধান বক্তা হিসেবে চৌধুরী আশিক চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ, টেক্সটাইল ও আইটি খাতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান। বিপুল বিনিয়োগের দৃশ্যমান আগ্রহের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গিয়েছিল এসব সফরে। যদিও গত অর্থবছরে দেশটির বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে ৮৯ শতাংশ। পাশাপাশি এ সময়ে দেশে চীনের নিট এফডিআই প্রবাহ কমেছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
দেশভিত্তিক বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব ও জার্মানি শীর্ষে থাকলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ দেশগুলোর মধ্যে চীন ছাড়া আর কেউ শীর্ষ পাঁচে ছিল না। গত অর্থবছরে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৮২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এরপর চীন থেকে এসেছে ৬২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব, যেখানে আগের অর্থবছরে এসেছিল ৫ হাজার ৭৩০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব। গত অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪১০ কোটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৩১০ কোটি ও হংকং থেকে ২২০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে।
দ্য ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) প্রেসিডেন্ট ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী হক চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২৩ সালের শেষের দিকে টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সবার ব্যবসায় সাঙ্ঘাতিক প্রভাব পড়েছিল। তার ওপর দেশে অন্তর্বর্তী সরকার থাকার বিষয়টিও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। কারণ বিনিয়োগকারীরা সবসময় স্থিতিশীল সরকার চায়। প্রতিযোগী দেশের তুলনায় আমরা বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছি সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রণোদনা কি অন্যদের চেয়ে আকর্ষণীয়? এমন কিছু খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করতে হবে যেটি স্থানীয় ভোগের পাশাপাশি রফতানিও হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে শিল্প স্থাপন করলে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বেশি দিতে হয়। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে দিল। কিন্তু এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা ছিল সেটি হয়নি। বিডার ওয়ানস্টপ সমাধান সে অর্থে হয়নি। এসব কারণেই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই।’
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ আকর্ষণে যেসব দেশ সফর করেছেন তার অনেকগুলো থেকে বিনিয়োগের পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের প্রস্তাবও কমেছে। ২০২৪-এর সেপ্টেম্বরে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়ার পর চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, কাতার, চীন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও কোরিয়া সফর করেছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র, ফেব্রুয়ারিতে জাপান, মার্চে যুক্তরাজ্য ও এপ্রিলে কাতারে (প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধি দলে) গিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ চার দেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে কাতার থেকে কোনো বিনিয়োগ আসেনি এবং যুক্তরাজ্য থেকে নিট এফডিআই কমেছে ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যে বিনিয়োগ এসেছে তার চেয়ে বেশি প্রত্যাবাসিত হয়েছে। এছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় জাপান ও যুক্তরাজ্য থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনের পরিমাণ কমেছে। এ সময়ে কাতার থেকে নতুন কোনো বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরে বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমে যাওয়ার বিষয়টি প্রত্যাশিত ছিল। এ সময়ে বাংলাদেশ একটি রূপান্তরকালীন প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল। এ ধরনের একটি পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখাবেন কোন ভরসায়।’
বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচার-প্রচারণার ধরনকে হতাশাজনক হিসেবে উল্লেখ করে ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান ও অন্যরা যদি মাটির কাছাকাছি গিয়ে কথা বলতেন তাহলে মানুষ মনে করত যে ওনারা অন্যদের চেয়ে আলাদা। বর্তমান সরকার তো আর কোনো রাজনৈতিক সরকার নয় যে তাদের নিজেদের ঢোল পেটাতে হবে। এর পরিবর্তে সরকার যদি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে সমস্যা কোথায়, বাধা কোথায় সেগুলো তুলে ধরত তাহলে বরং ভালো হতো। সাদাকে সাদা, কালোকে কালো আর যেটা অস্বচ্ছ (ধূসর) সেটিকে সেভাবেই উপস্থাপন করতে হবে। এর পরিবর্তে বাছাই করে ভালো চিত্র দেখানোর যে প্রবণতা সেটি কেন। তাও যদি সেটি প্রকৃত পরিস্থিতি হতো তাহলে ঠিক আছে। শুধু আশা-আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে চিত্রায়ন করার তো কোনো দরকার ছিল না।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, একদিকে উচ্চ সুদহারের কারণে বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। তার ওপর জ্বালানি সংকটের কারণেও ভুগতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এ অবস্থায় সব বিনিয়োগকারীই নির্বাচিত নতুন সরকারের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে মনে করছেন তারা।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিনিয়োগ নিয়ে তো অনেক জায়গায় অনেক আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো সবাই অপেক্ষা করে আছে নির্বাচনের জন্য। তবে এটাও ঠিক যে নির্বাচন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ আরম্ভ হয়ে যাবে না। সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটা সবাই দেখবে। সবচেয়ে বড় বিষয়টা হলো যে আমাদের এখানে ব্যাংক এখন যে রেট অব ইন্টারেস্ট দিচ্ছে তা বিনিয়োগের জন্য অনেক বেশি। এর সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা বড় বিষয় হলো জ্বালানি প্রাপ্যতার ঘাটতি। এ নিশ্চয়তা পাওয়ার আগে কোনো বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করতে গেলে দশবার চিন্তা করবেন। আমরা সবাই চাই যে বিনিয়োগ হোক। কিন্তু এখন সবাই অপেক্ষা করছেন নির্বাচনের জন্য।’
বিডার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটিতে জমা হওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণে যে পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে, সেটিকে কেবল একটি পরিমাণগত হ্রাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং বিডার মূল্যায়নে এটি বাস্তব বিনিয়োগ সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাব পর্যালোচনা ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় গৃহীত একটি গুণগত ও বাস্তবমুখী সমন্বয়ের প্রতিফলন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে যে পরিমাণ বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছিল তার ৫২ শতাংশ শেষ পর্যন্ত দেশে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাস্তবায়িত বিনিয়োগের পরিমাণ প্রস্তাবিত অংকের তুলনায় প্রায় ১৪৪ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে এ সময়ে নেয়া প্রস্তাবগুলো অধিকতর বাস্তবসম্মত, প্রস্তুত ও বাস্তবায়নযোগ্য ছিল। গত অর্থবছর থেকে বিডা বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণে আরো কাঠামোবদ্ধ ও বাস্তবতানির্ভর যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে। ফলে মোট প্রস্তাবের অংক কম হলেও তা বাস্তব বিনিয়োগ সক্ষমতার আরো সঠিক প্রতিফলন দিচ্ছে। বর্তমানে বিডার ফোকাস কেবল প্রস্তাবের পরিমাণ নয়, বরং বিদ্যমান বিনিয়োগ পাইপলাইন থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অনুমোদন, জমি বরাদ্দ ও ফাইন্যান্স ক্লোজার সহজ করা, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের রিইনভেস্টমেন্ট ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া।
বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রচি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তব বিনিয়োগ সক্ষমতা, বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও প্রকৃত এফডিআই প্রবাহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বাস্তব প্রতিফলন। এ পরিবর্তনের মাধ্যমে বিডা অধিক বাস্তবসম্মত প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাস্তব বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে অগ্রসর হয়েছে। সাম্প্রতিক এফডিআই প্রবণতা বাস্তব চিত্রকে সমর্থন করে। এ পদ্ধতিগত পরিবর্তনের ফলাফল ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে নিট এফডিআই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে, যা মাঠপর্যায়ের বিনিয়োগ বাস্তবতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ধারাবাহিক উন্নতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’