বিএনপির ক্ষমতা গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হয়। সংসদের বিরোধী দল সংসদ শুরু হবার পর চাপে রাখার চেষ্টা করবে। এছাড়া তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় দেশে বিশৃঙ্খার সৃষ্টি হয়েছে।
যদিও বিএনপি সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপি দেশকে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে যেমন ভূমিকা রেখেছিলেন জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া, তেমনি ভবিষ্যতে তারেক রহমান আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলবেন।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়ে থাকে। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার অথবা ডেপুটি স্পিকার নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করে থাকেন। বৈঠকের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হয়। গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কার্যত ‘না থাকায়’ নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রথম বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।
সরকারদলীয় হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু গণমাধ্যমকে রোববার বলেছেন, ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন তা এখনো ঠিক হয়নি। সংসদ নেতা তারেক রহমান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর থেকে বিদায়ী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ‘নিখোঁজ’। আর বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু মামলায় অভিযুক্ত হয়ে কারাগারে আছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘœ ঘটার আতঙ্ক চেপেছে জনমনে। যদিও ইতোমধ্যে এ সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। এর ফলে গতকাল এশিয়ার শেয়ারবাজারে গত ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন দেখা গেছে। অন্যদিকে তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
গতকাল বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৭৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে মার্কিন ক্রুড তেলের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বিশ্বজুড়ে পুনরায় মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিবর্তে তা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ডলার শক্তিশালী হওয়ায় এবং জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ডের মানও ১ থেকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
এদিকে তেলের সংকট বা দাম বাড়তে পারে- এ শঙ্কায় পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহন মালিক ও চালকরা। শঙ্কা থেকে বাড়তি জ্বালানি নিতে গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে ভিড় দেখা গেছে। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে এই মূহূর্তে জ্বালানির সংকট নেই। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সরবরাহ সাশ্রয়ে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে জ্বালানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিতে সরকার সজাগ আছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যদিও বর্তমান সরকারের কাছে অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানির কী রেখে গেছেন এ রকম কোনো সংবাদ নেই। বরং বিদ্যুৎ-জ্বালানির লাখ লাখ কোটি টাকা বকেয়া দায় রেখে গেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাই ঈদের আগেই জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে বড় ধরনের সঙ্কটের মুখে পড়তে যাচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট অনেকেই স্বৈরাচার হাসিনা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের অনিয়ম নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নতুন সরকারের ঘোষিত তিন অগ্রাধিকারের একটি। তবে অবৈধ অস্ত্র, জামিনে বের হওয়া পেশাদার সন্ত্রাসীদের তৎপরতা, চাঁদাবাজি, মাদক ও উগ্রবাদী তৎপরতার শঙ্কা—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ঈদ সামনে রেখে ছিনতাই ও মহাসড়কে ডাকাতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপদ রাখাকেও আশু চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ শুধু অপরাধ দমনের বিষয় নয়, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনআস্থার প্রশ্ন। দুই ক্ষেত্রেই দ্রুত অগ্রগতি দেখানো জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তারা এখনো মাঠে আছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দৃশ্যমান প্রভাব ফেলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে ভরাডুবির পর বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া নেতাদের মধ্যে শুরু হয়েছে দলে ফেরার তৎপরতা। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিষয়ে আপাতত কঠোর অবস্থানে বিএনপি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীরা এখনই দলে ফেরার সুযোগ নেই।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমরা চেয়েছিলাম তারা (বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা) যেন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন না করেন। তারা যেন ভোটের মাঠে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। কিন্তু আমাদের প্রত্যাশা তারা রাখেননি। এখন ফিরতে চাচ্ছেন-ভালো; দেখা যাক কী করা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এখন সংসদে। সামনে দল পুনর্গঠন করা হবে। তার আগে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলে ফেরতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাদের নিয়ে দল এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এবার বিএনপির চেয়ারম্যান খুবই কঠোর অবস্থানে আছেন। যারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে প্রার্থী হয়েছেন তাদের শিগগিরই দলে ফেরানোর সম্ভাবনা নেই।আস