Image description
 

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগ। সোমবার দলটির ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এই শোক জানান।

পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, রাহবার, সাইয়্যেদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদ মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তিনি ছিলেন দৃঢ় ঈমান, আপসহীন অবস্থান ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি মুসলিম উম্মাহকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন-অত্যাচারীর সামনে মাথা নত করা ঈমানের শিক্ষা নয়।

তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল কারবালার চেতনা, যেখানে ইমাম হুসাইন (রা.) ঘোষণা করেছিলেন: “আমার মতো ব্যক্তি,কখনো ইয়াজিদের মতো কারও কাছে ‘বাইআত নেবে না।”

আজ সেই আহ্বান যেন আবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে-একটি জাতি তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঈমানি চেতনাকে ধারণ করে অন্যায় ও দখলদারিত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। শক্তির দম্ভ, নিষ্পেষণ আর রক্তপাতের রাজনীতির বিপরীতে তিনি রেখে গেছেন আত্মমর্যাদা, প্রতিরোধ ও ন্যায়ের বার্তা।

মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি আরো বলেন, আমরা প্রার্থনা করি—আল্লাহ তা‘আলা তাঁর শাহাদাত কবুল করুন, তাঁর ত্যাগ উম্মাহর জাগরণের অনুপ্রেরণা হোক এবং মুসলিম বিশ্বকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন।

মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেতার হত্যার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আলোচনার টেবিলে বসা সত্বেও ইরানে হামলা চালানো ও বেসামরিক জনগনকে হত্যা করা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমরা ইরানের সাধারণ জনগনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি। নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার সাথে নিহত সকল শহীদানের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি।আল্লাহপাক তাদেরকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা দান করুন।

ইতিহাস সাক্ষী -রক্ত কখনো বৃথা যায় না, ত্যাগ কখনো মুছে যায় না। সত্যের পতাকা মিথ্যাকে ভূ লুন্ঠিত করে একদিন আরও উঁচুতে উড়বেই, ইনশাআল্লাহ।