Image description

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে বিভক্তির বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার ও পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়ে পথচলা শুরু করা দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রতিষ্ঠার পর রাজপথের সংগ্রামের এক বছরেই জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে জায়গা করে নিয়েছেন ছয় এনসিপি নেতা। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে ভালো করতে পারেনি জাতীয় নাগরিক পার্টি। আশা, আগামীতে অসমাপ্ত কাজ শেষ করার।

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, রাজপথে থেকে সংসদে যাওয়া বড় অর্জন নতুন দল হিসেবে। তবে অন্যভাবে দেখলে আমাদের আরও সুযোগ ছিল, আমরা সুযোগ হারিয়েছি। নতুন সুযোগ যে আমরা পেয়েছি সংসদে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। আমরা রাজ পথে সরব থাকব। সামনের দিনগুলোতে অসমাপ্ত কাজগুলো করতে পারব।

নাহিদ ইসলামের মতে গেল এক বছরে বিভিন্ন শক্তির নানা ষড়যন্ত্র এনসিপির পথচলা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। আগামীতেও দেশি-বিদেশি সংস্কারবিরোধী ও পতিত শক্তির অপচেষ্টা থেমে থাকবে না বলে মনে করেন তিনি।

চ্যানেল 24-কে তিনি বলে, সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করেছে এনসিপি যাতে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে না পারে। বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে, চ্যালেঞ্জ আসবে—সেগুলো মোকাবিলা করেই এনসিপিকে সামনে এগোতে হবে। আমরা মনে করি এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাবার সক্ষমতা এনসিপির তৈরি হয়েছে।

এনসিপি-জামায়াত জোট প্রসঙ্গে তিনি বললেন, সমালোচনাসহই জামায়াতের সাথে সংস্কার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ আছে এনসিপি। জামায়াত সংস্কার ইস্যুতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারত, আমরা সেই সমালোচনা কিন্তু করেছি। নির্বাচন আমরা একসঙ্গে করেছি, সংস্কার প্রশ্নে আমাদের ঐক্যের জায়গাটা এখনও আছে। এটি শুধু জামায়াত না, এগারো দল ও এগারো দলের বাইরে  আমরা সেই ন্যূনতম ঐক্যটা রাখতে চাই। এছাড়া একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের কর্মসূচি, আমাদের কার্যক্রম, স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুতি—এগুলো আমরা আলাদাভাবেই নিচ্ছি।  

আর যে সংসদে সংস্কার পরিষদ নেই সেখানে এনসিপির পক্ষে বেশিদিন থাকা সম্ভব নয় বলে সাফ জানালেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম এই সংগঠক ও এনসিপি আহ্বায়ক।