জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগের রাতে টাকা দিয়ে ভোট কেনাবেচা, কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জালভোট, হিন্দু ভোটারদের হুমকিসহ নানা বিষয়ে ১২৭ অভিযোগ এনেছে বিএনপি। অন্যদিকে, নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলেছেন, ‘লাইলাতুল গুজব চলছে। সবাই সাবধান, এই সমস্ত গুজবকে পাত্তাই দিবেন না। ইনশাআল্লাহ সত্যের বিজয় অবশ্যম্ভাবী।’
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন অভিযোগ তুলে ধরে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সবাই শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মধ্যেই থাকবেন বলে ভেবেছিলাম। কিন্তু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য এমন পরিস্থিতি দুঃখজনক। একটি বিশেষ দল ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে আগের রাতে সব প্রার্থীই কেন্দ্র খরচ পাঠান। লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কেন্দ্র খবচের ১৫ লাখ টাকা নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
বিএনপির এই নেতার অভিযোগ, সৈয়দপুর বিমানবন্দরে একজন জামায়াত নেতার কাছ থেকে ৭৪-৭৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে, যা ভোট কেনার জন্য নেওয়া হচ্ছিল বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ ছাড়া শরীয়তপুরে সাড়ে সাত লাখ টাকা, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানসহ মুরাদনগর, নেত্রকোনা ও পটুয়াখালীতে টাকা বিতরণের সময় বেশ কয়েকজন জামায়াতকর্মী আটক এবং কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে সলিমুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট শুরুর আগেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ (প্রকৃতপক্ষে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার) প্রতীকের এজেন্টের স্বাক্ষর করা ২৩টি রেজাল্ট শিট পাওয়া গেছে, যা পরে ম্যাজিস্ট্রেট জব্দ ও ধ্বংস করেন। নারায়ণগঞ্জে একজন প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় ব্যালটে সিল মারার চেষ্টার অভিযোগও করেন নজরুল ইসলাম খান।
নির্বাচনী সহিংসতা ও হুমকির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, খুলনা-৫ আসনে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের ভোট না দিলে ‘ভিটায় পা রাখতে দেওয়া হবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নীলফামারীতে সংখ্যালঘু পল্লীতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেন। রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় প্রশিক্ষিত না হওয়া সত্ত্বেও ৩৩০ জনকে টাকার বিনিময়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও করেন নজরুল ইসলাম খান।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়েই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চাই। দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান– যে অধিকার আদায়ের জন্য এত লড়াই করা হয়েছে, তা রক্ষায় সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। নেতাকর্মীদের পালাক্রমে ভোটকেন্দ্র পাহারা এবং ফলাফল হাতে নিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করার নির্দেশ দেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা।