Image description

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী থেকে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে চারজনকে সামরিক বাহিনীতে ফেরত নিতে বলা হয়েছে। আর বাকি কর্মকর্তাদের নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ অবসর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটিতে প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের সই রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা পেছনের তারিখ থেকে (ভূতাপেক্ষভাবে) কার্যকর হবে।

তালিকা অনুযায়ী পদোন্নতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১০ জন, নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। সরকারি ঘোষণায় তাঁরা অবসরকালীন সুবিধা, প্লটসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাবেন।

এর মধ্যে বিএমএ ৭৫তম লং কোর্সের চার কর্মকর্তা—লেফটেন্যান্ট শাফায়েত আহমেদ, লেফটেন্যান্ট এ এইচ এম ইকরামউজ্জামান, লেফটেন্যান্ট তৌকির মাহমুদ তুষার এবং লেফটেন্যান্ট আবদুল্লাহ ওমর নাসিফকে জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধাসহ অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে এই কমিটি গঠিত হয়। কমিটি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া আবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করে। কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত বা বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের করা আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ পেশ করে।

কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কমিটির সুপারিশ অনুসারে তালিকা ধরে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবেদন করা আরও ২০১ জন কর্মকর্তার নথি না পাওয়ায় তাঁদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ৭ জন মেজর জেনারেল, ২০ জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আছেন। এ ছাড়া নৌবাহিনীর দুজন কমোডর এবং বিমানবাহিনীর একজন এয়ার ভাইস মার্শাল ও চারজন এয়ার কমোডর এই তালিকায় রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যে আছেন—লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালি, মেজর জেনারেল মুহাম্মাদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি, মেজর জেনারেল কামরুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, কমোডর এম নাসির, কমোডর সৈয়দ মকছুমুল হাকিম, এয়ার ভাইস মার্শাল দেলোয়ার হোসেন, এয়ার কমোডর সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, এয়ার কমোডর কাজী মাজহারুল করিম, এয়ার কমোডর খালিদ হোসেন ও এয়ার কমোডর শাহারুল হুদা।