শরীয়তপুর-৩ (গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে একমঞ্চে উঠে ভোট চেয়েছেন বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে গোসাইরহাট উপজেলার দাসের জঙ্গল বাজার ফুটবল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় এ চিত্র দেখা যায়।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু বলেন, নির্বাচন এলেই অনেকেই মানুষের কাছে নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু আমি আমার পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, আস্থা ও নৈতিকতার জায়গা।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।
গত তিন মাসে শরীয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নুরুদ্দিন অপু বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ আমাকে আপনজনের মতো গ্রহণ করেছেন। আমি বিভাজনের রাজনীতি করি না। শরীয়তপুরের মানুষই আমার পরিবার, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি আরও বলেন, এই ‘পরিবার’ অর্থাৎ শরীয়তপুরের মানুষ তার কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার।
এসময় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, বিশেষ কারণে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে আসতে পারেনি। গত ৫৪ বছরে গোসাইরহাটে কোনো এমপি পাইনি, তাই গোসাইরহাটের সূর্যসন্তান মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুকে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম সিদ্দিক আহমেদের সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. এ এস কামাল উদ্দিন আহমেদ, বর্তমান সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার, সাবেক সচিব ফারুক আহমেদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক টি আই এম মহিতুল গনি মিন্টু সরদার, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু প্রমুখ।
আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি চৌধুরী আহসান সিদ্দিক লাবু, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুর রব সরদার, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান সরদার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিএম নাসির উদ্দিন স্বপন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কোতোয়াল মো. টিপু সুলতান, নলমুড়ি ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আজাহার হোসেন সরদার, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হোসেন বাচ্চু ছৈয়াল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু সরদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
জনসভাকে সামনে রেখে বিকেল ৩টা থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল হয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ফুটবল মাঠে জড়ো হতে থাকেন। কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন, কারও হাতে প্রার্থীর পোস্টার; স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নামার আগেই মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।