গত ০৮ জানুয়ারী ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এক জমকালো আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনে শহীদ, আহত ও ভূমিকা রাখা অন্তত ১২০০ ব্যক্তিকে একটি ক্রেস্ট এবং নগদ ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদাণ করেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান জ্যাম সংস্থা। ওই অনুষ্ঠানে আসলাম চৌধুরী উপস্থিত থেকে শহীদ পরিবারের হাতে চেক হস্তান্তর করেন। কিন্তু এরপর থেকেই ওই চেক নিয়ে ব্যাংক গেলে একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই দেখাচ্ছে। মানে প্রত্যেকের চেক বাউন্স। এরপরে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গত ১৬ জানুয়ারী ব্যাংকে টাকা জমা করার নিশ্চয়তা দেন। কিন্তু ১৮ তারিখ ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, হিসাবটিতে মাত্র ২০ হাজার টাকা আছে। এরপর থেকে আজ-কাল-পরশু করে নানা টালবাহানা করে যাচ্ছেন আসলাম চৌধুরী। এদিকে জুলাই যোদ্ধা পরিবারগুলো বারবার ব্যাংকে দৌড়ে হয়রান। লজ্জিত হচ্ছেন সাংবাদিকরাও। পরে ২৮ জানুয়ারীর মধ্যে টাকা না দিলে আন্দোলনের ডাক দিলে ৩ ফেব্রুয়ারী টাকা জমা করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। সেদিনও ব্যাংকে গিয়ে চেক বাউন্স হয়। সর্বশেষ আজ সবাইকে ব্যাংকে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায়, একাউন্টে মাত্র ১৬ হাজার টাকা রয়েছে। এতে একটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়, সম্মাননা নয়- আসলাম চৌধুরী একটি নিদিষ্ট দুরভিসন্ধি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এবং তার উদ্দেশ্য সৎ নয়।
উল্লেখ্য, ৮৪৪ জন জুলাই শহীদ ১০২ জন সাংবাদিক ও জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত এবং অগ্রনী ভূমিকা রাখা আরো ২৫৪ জনসহ মোট ১২০০ ব্যক্তিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা দেয়া হয়।
বি:দ্র: আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচন করছেন। এরআগে তার ২৩টি ব্যাংকে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণখেলাপি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তারপরও নির্বাচন কমিশন তাকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি দেন।
-শরীফ রুবেল