তারেক রহমান দেশে আসার দিন তথা ২৫ ডিসেম্বর যে বক্তব্য দেন তা ছিল আশা জাগানিয়া । যদিও সে বক্তব্যে হাদি হত্যার বিচার কিংবা হাসিনার বিচারের মত কিছু বিষয় ছিল অনুপস্থিত। তবুও কমপক্ষে প্রতিহিংসামূলক কিছু না থাকায় তাঁর বক্তব্য প্রশংসিত হয়েছিল সব্য মহলে। কিন্তু তার এক মাস যেতে না যেতেই তিনি পুরাই বদলে গেলেন। তার বক্তব্যের সূরও পালটে গেল।২২ জানুয়ারির বক্তব্যে তিনি প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে অনলাইনের ছাপড়িদের ভাষা 'গুপ্ত-সুপ্ত' ইত্যাদি ব্যবহার শুরু করলেন । জাতি প্রচণ্ড রকমের ধাক্কা খায়। এটা কতটা ভয়ানক, চিন্তা করতে পারেন? এই যে বিএনপি- জামায়াতের আজকের দূরত্ব তার সূচনা কোথায় বলতে পারেন ? এই অনলাইন বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই শুরু । এখানে যে যাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারে। হত্যার হুমকি, ধর্ষনের হুমকি সবকিছু । ছত্রসংসদ নির্বাচনগুলোতে আমরা এর বড় ধরণের মহড়া দেখেছি। শিবির প্যানেলের মেয়েদেরকে এমন কোন নোংরামি নাই যা অনলাইনে করা হয়নি। এক সংবাদ সম্মেলনে তার কিছু অংশ তুলে ধরা হয়েছিল। এনসিপির এক মেয়ে নেত্রী এইগুলো সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করে ফেলে ।
অথচ সেই অনলাইনের থার্ড ক্লাস ছাপড়িদের থার্ড ক্লাস ভাষা উঠে গেল তারেক রহমানের মুখে। যাকে বিএনপি মনে করে ভাবি প্রধানমন্ত্রী । এবার প্রধানমন্ত্রী না হলেও বিরোধী দলীয় নেতাতো হবেনই ।
এমন একজন নেতা যখন হিংসা, বিদ্বেষ আর ঘৃণা ছড়ানোর ভাষা প্রকাশ্যে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশে ব্যবহার করেন, তখন তার ভয়ানক নেতিবাচক প্রভাব দেশের তৃণমূলে কিভাবে পড়ে, তার কোন ধারনা আছে বলেই মনে হলোনা। তারপর নিয়ে আসলেন শিরকের ফতোয়া। নতুন মুফতির ফতোয়ায় অনলাইনে আবারও ঝড় উঠলো পক্ষে বিপক্ষে।তারেক রহমানের উচিত ছিল কার্ড বিক্রির মত নিজের দলের পলিসিগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা। যাতে অনলাইনে ও অফলাইনে তার যুদ্ধাংদেহী কর্মীগুলো নির্বাচনী প্রচারণা করার মত কিছু শিখতে পারে। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে তিনি কি অন্য দলের সমালোচনা করতে পারবেন না ? অবশ্যই করবেন । তার প্রতিপক্ষ দলের পলিসিগুলোর সমালোচনা করবেন। কার্যক্রমের সমালোচনা করবেন। নিজ দলের কার্যক্রম অন্য দলের চেয়ে কেন ভাল সেটা তুলে ধরবেন । কিন্তু তা না করে তিনি চলে গেলেন সরাসরি আক্রমণে । একেবারে ছাপড়িদের মত।
২৫ ডিসেম্বরের তারেক রহমানের বক্তব্য যদি ফার্স্টক্লাশ লেভেলের হয়, তাহলে ২২ জানুয়ারী থেকে তার বক্তব্যগুলো নিশ্চয়ই থার্ড ক্লাশ লেভেলের। যাতে জাতির জন্য কোন আশার আলো নাই। আছে হিংসা, ঘৃণা আর মাঠ পর্যায়ে নোংরামি ছড়িয়ে পড়ার উপকরণ। আমার আগের এক স্ট্যাটাসে আমি এটাই বুঝাতে চাইছিলাম। ফলে আমাকেও হত্যা ও ধর্ষনের হুমকি দেয়া হয়। পোস্টের কমেন্টগুলো পড়লেই যে কেউ বুঝতে পারবেন। ইনক্সেও অনেক হুমকি জমা হয়ে আছে ।
নেতার দায়িত্ব হলো উশৃংখল কর্মীদের শান্ত করা। প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। অন্যায় করলে ছাড় দেয়া হবেনা ঘোষনা দেয়া। কিন্তু তার বদলে দলের প্রধান নেতা যখন আক্রমণের উস্কানি দেন, কোন দলের বক্তব্যের কারণে ভূমিকম্প হয়েছে বলেন, তখন মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা আরও বেপরোয়া, আরও অসহিষ্ণু হয়ে উঠে । যার ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে একর পর এক কাপুরুষের মত নারীদের উপর হামলা হচ্ছে । সমাবেশে হামলা হচ্ছে। হামলা করার জন্য অজুহাত আগেই রেডি থাকে ।এত ঘটনার পরেও তারেক রহমানকে একবারের জন্যও তার নেতা-কর্মীকে শান্ত থকার নির্দেশ দিতে শুনা যায়নি । নারীদের সম্মান করতে বলেন নি। এতেই প্রমাণ করে তিনিই চান, তার নেতা-কর্মীরা যেন হেডম দেখিয়ে, মাস্তানি করে, গায়ের জোরে সব কিছু তার দলের ফেভারে রাখে । কিন্তু এটাতো গণতন্ত্রের প্রিন্সিপলের সাথে যায়না। দিনশেষে ব্যাক ফায়ার করে।ফলে অনলাইনের উস্কানি ছড়ানো ভাষায় তার পক্ষ থেকে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ, প্রায় প্রতিদিন নারীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় নিশ্চুপ থাকা এবং নেতা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার কোন চেষ্টা না থাকাই প্রমাণ করে হত্যাকাণ্ডসহ এসব অঘটনের মূল পটীয়সী তিনিই । শেরপুরে জামায়ত নেতা রাজাউলের হত্যাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার দায়ও তিনি কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।
আবু সালেহ ইয়াহিয়া