Image description
 

নারীদের নিকাব নিয়ে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে বিএনপি নেতার বক্তব্যকে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এটি স্পষ্টভাবে ধর্মকে উপহাস উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, বিশ্বাসের জায়গা নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করতে হবে।

ফেসবুক পোস্টে শিবির সভাপতি লিখেছেন, নিকাব ইস্যুতে বিএনপির এক নেতার ধৃষ্টতাপূর্ণ, অজ্ঞতাপূর্ণ ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। মুসলিম নারীর নিকাব শুধু একটি পোশাক নয়— এটি ঈমানি পরিচয়ের অংশ, শরিয়তসম্মত ইবাদত ও পর্দার একটি রূপ। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় পর্দা ও শালীনতার নির্দেশ দিয়েছেন— ‘বল (হে নবী), ঈমানদার নারীদেরকে যেন তারা তাদের চাদরের অংশ নিজেদের ওপরে টেনে নেয়’ (সুরা আহযাব, ৩৩:৫৯)।

তিনি আরও লিখেছেন, বিএনপি নেতার জঘন্য ভাষ্য শুধু ইসলামী শরিয়তের বিরুদ্ধে নয়, বরং মুসলিম নারীর মৌলিক অধিকারকে পদদলিত করার হীন প্রচেষ্টা। বাংলাদেশ সংবিধানের ৪১(১)(ক) ধারা ধর্ম পালন ও প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ আইসিসিপিআর আর্টিকেল ১৮ ও রিলিজিয়াস এক্সপ্রেশনের স্বাধীনতা চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি দেয়।

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম লিখেছেন, ইসলামের বিধানকে নিয়ে বিদ্রূপ করা রাজনৈতিক কুশলতা নয়— এটি স্পষ্টভাবে ধর্মকে উপহাস করা। বিশ্বাসের জায়গা নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করতে হবে।

এর আগে এক গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি নেতা ও একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মন্তব্য করে বলেন, ‘নিকাব, হিজাব না, নিকাব লাগিয়ে চোখ বের করে গেছে, তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে সে পুরুষ না নারী, না কি? সে কে? সে বলেছে, এটা তো ইসলামের প্রতি অবমাননা হল।’

তিনি বলেন, ‘নিকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। নিকাব মুসলমানদের ড্রেসই না। ইহুদি নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করত অথবা অন্য কোন নিষিদ্ধ কার্যক্রম করত, তখন নিকাব পরত। (একজনকে দেখিয়ে) আর উনি যেটা পড়ছেন এটার নাম হল হিজাব। হিজাব হল মুসলমানের ড্রেস। বাট নিকাব মুসলমানের ড্রেসই না। কেউ বলবেন না যদি মব হয়, আমি বললাম। আমি বললাম, অন্যরা বলা শুরু করেন।’