Image description

তারেক রহমানের সাথে আজকে সাংবাদিকদের মিট টু গ্রিট প্রোগ্রাম ছিল। 

 

এক সাংবাদিক প্রশ্ন শুরু করলেন, মাননীয় চেয়ারম্যান.........

 

তারেক রহমান তাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন, দয়া করে আমার নামের আগে মাননীয় শব্দটা ব্যবহার করবেন না । 

 

মাহমুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যের সময় তারেক রহমানকে পিঞ্চ করে বসলেন । বললেন তারেক রহমান ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। তাই বাংলাদেশে কি হয়েছে তাঁর কিছুই নাকি উনি জানেন না। বাংলাদেশে কি ঘটছে সেটা নাকি মাহমুদুর রহমানের কাছ থেকে উনার জানতে হবে। 

 

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের সময় অত্যন্ত নম্রভাবে বললেন, আমি মাহমুদুর রহমানের প্রতি যথাযথ সন্মান রেখে বলছি, উনি যেভাবে বলেছেন আমি ১৭ বছর কি হয়েছে কিছুই জানি না সে বক্তব্যটি আসলে ঠিক নয়। আপনি মাহমুদুর রহমান, আপনার রক্তমাখা ছবি আমার মনে আছে। আমি একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমার দলের ৬০ লক্ষ নেতা-কর্মী নানাভাবে গুম-খুন-মামলার স্বীকার হয়েছে। আমার নিজের মায়ের উপর যে ভয়াবহ রকমের জুলুম করা হয়েছে সেটা আপনারা সবাই জানেন। তাই বাংলাদেশে কি ঘিটেছে না ঘটেছে তাঁর সবই আমি জানি। 

 

জামাতের নয়া দিগন্তের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, আপনি যে বলেছেন,

"I have a plan"

 

 কি সেই প্ল্যান সেটা তো আমাদের কাছে পরিষ্কার না । অথচ বিএনপির প্রত্যেকটা পেজ থেকে প্রতিনিয়ত পলিসি আপডেট দেয়া হয়, সেমিনার-সিম্পজিয়ামে প্রতিনিয়ত বিএনপির দেশ পরিচালনা সংক্রান্ত শত শত প্ল্যান দেয়া হচ্ছে। 

 

এর জবাবে তারেক রহমান বললেন, দেখেন আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছি। আমরা হিসাব করে দেখেছি বাংলাদশে ৪ কোটি পরিবার আছে। প্রত্যেক পরিবারের নারী সদস্যদেরকে আমরা মান্থলি আড়াই হাজার টাকা দেয়ার চিন্তা করছি। হ্যাঁ, আমাদের মাথায় আছে, এ ধরনের সোশ্যাল সেফটি নেট কার্ড বিতরণ করতে যেয়ে অনেক দুর্নীতির আশ্রয় নেয়া হয়। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা সবাইকে এই কার্ড দিব। 

 

সবাইকে এক সাথে দিতে পারবো না। প্রান্তিক-হত দরিদ্র মানুষদের থেকে আগে দেয়া শুরু করবো । আমরা অন্ততকাল এই কার্ড দিব না । একেকটা পরিবারকে ৫-৭ বছরের জন্য দিব। আমরা আশা করছি, ৫-৭ বছর এই সাপোর্ট পেলে অনেক পরিবার এই দারিদ্র্যতার কষাঘাত থেকে বেড় হয়ে আসবেন। গ্রামের অর্থণৈতিক গতিশীলতা বাড়বে, যা আল্টিমেটলি দেশের অর্থণীতিকে গতিশীল করবে। 

 

আমরা বেকারদের জন্য, তরুণদের জন্য স্পেশাল প্ল্যান করছি। আমরা মনে করছি এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি কাজে লাগানো না যায় তাহলে ৭১, ৯০, ২৪ কোনটার চেতনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। 

 

মেয়েদের একটা বড় অংশ শিক্ষিত হবার পরও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত হচ্ছেন না । তাদেরকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে যুক্ত করার জন্য আমাদের আলাদা প্ল্যান আছে। 

 

আপনারা দেখেছেন লাস্ট কয়েকদিনে ইউরোপের অনেকগুলো দেশের রাষ্ট্রদূত আমার সাথে দেখে করতে এসেছেন। আমি তাদেরকে বলেছি, আমাদের ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে আধুনিকায়ন করতে আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। আমরা এই ট্রেইনিং সেন্টারগুলোকে যুগোপযোগী করবো, অনেকগুলো অপ্রয়োজনীয় কোর্স বাদ দিয়ে দিব। অনেকগুলো ভাষার ট্রেনিং যুক্ত করবো, আইটির কোর্স এড করবো। 

 

বিদেশে এখন প্রতি বছর ১০ লাখ মানুষ যাচ্ছে। আমরা যদি ২-৩ বছরের মধ্যে এই মানুষগুলোর সাথে ভ্যালু এড করে তাদেরকে বাইরে পাঠাতে পারি তাহলে যারা আগে ১০০ ডলার আর্ন করতো তারা ১৫০ থেকে ২০০ ডলার আর্ণ করবে। পাশাপাশি আমাদের টিম কোন দেশে ওয়ার্কার শর্টেজ আছে সেটা নিয়ে কাজ করছে। আমাদের প্ল্যান আছে তাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে আমাদের শ্রম বাজার আরও বড় করার। নেক্সট ২-৩ বছরের মধ্যে শ্রম বাজারকে ডাবল করে ফেলা। 

 

ফ্যাসিস্ট সরাকারের আমলে আইটি পার্কের নামে কিছু বিল্ডিং বানানো হয়েছে যেগুলোতে এখন অসামাজিক কার্যকলাপ, কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ভাড়া দেয়া ছাড়া আর কিছু হচ্ছে না। আমরা সেগুলো নিয়ে ভিন্ন প্ল্যান করছি। 

 

যারা ফ্রিল্যান্সার আছেন, আইটি উদ্যোক্তা আছেন তাদেরকে এই পার্কগুলোতে স্পেস দেয়ার চিন্তা করছি যেন তারা ব্যবসাটাকে ফ্লারিস করতে পারেন। বিদেশ থেকে দেশে টাকা আনা সহজ করতে পেপালসহ অন্যান্য ফিনান্সিয়াল সাপোর্ট টিমের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখছি। 

 

ঢাকা শহরে পানির যে অবস্থা দাঁড়াচ্ছে তাতে করে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরে তীব্র পানি সংকট দেখা দিবে। সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি। আমাদের টিম কাজ করছে। নদীগুলো কিভাবে দূষনমুক্ত করা যায়। কিভাবে মানুষের পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। 

 

দেশের দেড় কোটি কৃষক আছেন যারা ২০ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দিচ্ছেন। তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। এই কৃষকের সুরক্ষা দিতে আমরা প্ল্যান নিয়েছি। তাদেরকে কৃষক কার্ড দেয়া হবে যার মাধ্যমে তারা সহজে কৃষি ঋণ পাবেন, ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার পাবেন। কৃষি রিলেটেড সকল সেবা হয়রানিমূক্তভাবে সহজে পাবেন। 

 

আমি একটা ঘটনা বলি। ২০১০ সালে লন্ডনে যাওয়ার পর আমি তদকালীন লেবার পার্টি চিফ আর কনজারভেটিভ পার্টি চিফের মধ্যে একটা ডিবেট দেখছিলাম। তারা নিজেরা কি নিয়ে ডিবেট করছিল জানেন ?  

 

লন্ডনের এম্বুলেন্স সার্ভিস কিভাবে আরও ভালো করা যায় সেটি নিয়ে। তখন লন্ডনে ২০ মিনিটের মধ্যে এম্বুলেন্স সার্ভিস পাওয়া যেত। তারা ডিবেট করছিল কিভাবে এটিকে ১৮, ১৫ বা ১২ মিনিটের মধ্যে নিই আসা যায়। 

 

আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের ডিবেট বেশি জরুরী। অথচ আমাদের সকল ডিবেট বিভিন্ন পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে আটকে যাচ্ছে।

 

আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক অনেক মত পার্থক্য থাকবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা যেন বিদ্বেষে রূপ না নেয়।    

 

বাংলাদেশকে আগাতে হলে আমাদেরকে প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা না । বরং সহযোগিতা আর সহমর্মিতার সাথে এক সাথে কাজ করে যেতে হবে। 

 

আমরা যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পাই তাহলে আপনারা আমাদেরকে নানা আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে সাহায্য করবেন। হ্যাঁ, শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা না। সেটা যেন গঠনমূলক হয়, মানুষের সমস্যাকেন্দ্রিক হয় সেই অনুরোধ আপনাদের প্রতি থাকবে।" 

 

আজকের প্রোগ্রামে তারেক রহমানের বক্তব্যের চুম্বকাংশ এগুলো। এই লোক তেলে গলে গেলেন না। আবার নিজের উপর অন্যায়ভাবে আরোপ করা একটি এলিগেশন সুন্দরভাবে উত্তর দিলেন। 

 

জামাত-এনসিপি কমপ্লেইন করে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সারাদেশ তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। দেশের সিভিল সোসাইটি, সংবাদ মাধ্যম, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা পর্যন্ত উনার দিকে ঝুঁকে গেছে। 

 

গণ অভ্যুত্থানের পরও তারেক রহমান দেড় বছর দেশে ছিলেন না। উনি দেশে আসার পর সমস্ত লাইমলাইট নিয়ে নিয়েছেন। আপনারা এত সময় মাঠ ফাঁকা পেয়েও কেন মানুষকে আপনাদের দিকে নিয়ে আসতে পারলেন না ? কেন মানুষের ভরসা জিততে পারলেন না ? উত্তরগুলো আসলে আপনাদের নিজেদের খোঁজা উচিত। 

 

বাংলাদেশের মানুষ একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে যে গুনগুলো দেখতে চায় উনি সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করে চলেছেন। কারো প্রতি কোন উগ্র মন্তব্য না, কাউকে নিয়ে বাজে কথা না। শুধু মানুষের সমস্যাকেন্দ্রিক আলোচনা। চারদিকে থেকে সমস্যায় জর্জরিত একটা দেশকে কিভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় উনার ভাবনায় শুধু সেগুলো। তারেক রহমানের এই মাইণ্ডসেট বাকী সবার সাথে উনার পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

 

- শাহরিয়ার আহমেদ সাদিব