আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এখন পর্যন্ত ৮৪ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে যাচাই-বাছাইয়ে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত তিনটি নাম উঠে এসেছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, যশোর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টি এস আইয়ুব এবং কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া বিএনপির আটজনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় ভুল ও তথ্যে গরমিল, ভোটারের স্বাক্ষর না থাকা, মামলা ও ঋণখেলাপির অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
চট্টগ্রাম : তিনটি আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আশরাফ ছিদ্দিকী, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টির (জাকের) মোহাম্মদ এরশাদ উল্ল্যার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। এরশাদ উল্ল্যা নিজেই নিজের প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আক্তার ও আহমদ কবির, খেলাফত মজলিসের আফরাফ বিন ইয়াকুব এবং গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জাতীয় পার্টির এম এ ছালাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াহেদুল মাওলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বগুড়া : জেলার তিনটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমান। এর মধ্যে বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা) আসনে দুজন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে চারজন এবং বগুড়া-৩ (আদমদীঘি–দুপচাঁচিয়া) আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। হলফনামায় তথ্যের গরমিল থাকায় বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, গণঅধিকার পরিষদের সেলিম সরকার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু। বগুড়া-১ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাজাদী আলম লিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বগুড়া-৩ আসনে পাঁচজনের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শাহজাহান আলী তালুকদারের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
যশোর : জেলার দুটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। যশোর-৩ (সদর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিজাম উদ্দিন অমিতের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী টিএস আইয়ুব, বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারহান সাজিদ ও জাতীয় পার্টির জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টিএস আইয়ুবের নামে ঢাকা ব্যাংকে ঋণখেলাপি থাকার কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
কক্সবাজার : কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে সাতজনের মধ্যে জামায়াতের এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মওলার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। মামলার যথাযথ নথি দাখিল না করায় আযাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ইসলামী আন্দোলনের সরওয়ার আলম কুতুবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
কুমিল্লা : জেলার ছয়টি আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বিভিন্ন আসনে জাতীয় পার্টি, জাসদ, জামায়াত, সিপিবি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, কল্যাণ পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
গাইবান্ধা : দুইটি আসনে আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ আসনে পাঁচজন এবং সদর আসনে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীসহ চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
বরিশাল : তিনটি আসনে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং দুজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
খুলনা : দুটি আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থীসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম : দুটি আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ও একজনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
পাবনা : পাবনা-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদের প্রস্তাবককে ডিবি আটক করার অভিযোগ উঠেছে।
রংপুর : দুটি আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : তিনটি আসনে ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
টাঙ্গাইল : চারটি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মোট নয়জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শীর্ষনিউজ