সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দেশের রাজনীতি এখন নতুন এক অধ্যায়ের মুখোমুখি। সাধারণ মানুষ বলছেন, দেশকে যারা আগামীর পথে এগিয়ে নিতে কাজ করবে, তাদের খালেদা জিয়ার অবিচল নেতৃৃত্ব, আপসহীনতা আর দীর্ঘ সংগ্রামের পথ অনুসরণ করা উচিত। বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের গভীর ভালোবাসা থাকলেও, দলের পরবর্তী নেতৃত্বকে অর্জন করতে হবে জনগণের আস্থা।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরিসরকে খুব সংক্ষেপে বললে এমনটা দাঁড়ায়— দীর্ঘ ৪৪ বছরের রাজনীতির ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ পথে এক নারীর অবিচল যাত্রা।
দীর্ঘ এ সময়ে রাজনৈতিক উত্থান, পতন, অসংখ্য চ্যালেঞ্জ, কোন কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার দীর্ঘ সংগ্রাম, সাহস ও দৃঢ়তা জয় করেছিলো কোটি মানুষের হৃদয়। তাই তো তাকে শেষ বিদায় জানাতে শহরজুড়ে নামে এমন জনস্রোত। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা পরিণত হয় ইতিহাসের এক বিরল সমাবেশে।
দীর্ঘ চার দশকের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া হয়ে উঠেছিলেন সবার আস্থার জায়গা, প্রধান স্তম্ভ। সাধারণ মানুষরা বলছেন, তার অনুপস্থিতি দেশের রাজনীতিতে তৈরি করবে এক অনিবার্য শূন্যতা।
দলীয় সমর্থকদের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। সমালোচকদের চোখেও ছিলেন সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তারা মনে করেন খালেদা জিয়ার অবর্তমানে রাজনৈতিক উত্তরাধিকারদের অর্জন করতে হবে সেই আস্থা।
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর গত ২৫ ডিসেম্বর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। সপ্তাহ না পেরোতেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন খালেদা জিয়া। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমানই এখন দলের চেয়ারম্যান। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে দলও এমনটাই জানাবে। তাই নতুন এ নেতৃত্বে ইতিবাচক ও চ্যালেঞ্জিং, এই দুই আবহই রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষরা। তাদের মতে, তারেক রহমান এখন অনেক পরিণত রাজনীতিবীদ। দেশ-দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা তার রয়েছে। তবুও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে তাকে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে। জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হওয়ার সঙ্গে সফল ও দেশপ্রেমিক রাজনীতিবীদ প্রমাণে হতে কাজ করতে হবে নিজেরই।
এদিকে, নির্বাচনের মাঠেও খালেদা জিয়া ছিলেন দলীয় ঐক্যের ভিত। জোটের ক্ষেত্রেও ছিল তার একই ভূমিকা। এবারই প্রথম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনী মাঠে নামবে বিএনপি। যেখানে না থেকেও থাকবে খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনীতির প্রভাব।
মূলত, এমন এক সময়ে চলে গেলেন খালেদা জিয়া, যখন দেশের রাজনীতি আবারও বিভাজন, দ্বন্দ্ব ও প্রতিহিংসার চক্রে ঘুরছে। সাধারণ মানুষ বলছে, খালেদা জিয়া পথ অনুসরণ করে অহিংস রাজনীতির পথে এগিয়ে নিতে হবে দেশকে। নেতৃত্ব গুণ আর ব্যক্তিত্বের কারণেই আকুন্ঠ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। তার আদর্শ আর দেশপ্রেমকে সামনে রেখে এগোতে পারলেই বদলে যাবে বাংলাদেশ আর দেশের রাজনীতির চেহারা— এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ।