
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে সমতল জনগোষ্ঠীর সমর্থন চায় বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী তথা সমতল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করবে। জনগণের রায়ে বিএনপি আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সহজ করা যায় সে বিষয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা রয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের দেশে দেশে তথ্য প্রযুক্তির যে অবাধ প্রবাহ তার কারণে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর লোকালয়েও এর একটি প্রভাব হানা দিয়েছে। সারা দেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং সাতন্ত্রবোধ রক্ষার প্রতি সম্মান রেখে আহ্বান জানাই এই সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের নিজস্ব যে ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি আছে সেটি সংরক্ষণের স্বার্থে হলেও যে কোনো মূল্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও কর্মদক্ষতা অর্জনের সুযোগগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, নিজেদের গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক অধিকার চর্চা প্রয়োগের ক্ষেত্রেও সমানভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি। শিক্ষাদীক্ষাসহ আপনারা যাতে রাষ্ট্রের দেওয়া সব নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারেন সেই লক্ষ্য নিয়েই ২০০৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ আগ্রহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে পাহাড়ি কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রত্যেকটি জনগোষ্ঠী নিজের এবং নিজ দেশে স্বার্থ সম্পর্কে যদি সচেতন থাকে তাহলে অবশ্যই কোনো অপশক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ নিতে পাবে না। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সবাইকে বাঙালি বানাতে গিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মনে একটি অবিশ্বাসের বীজ বপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেখেছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মন থেকে সেই অবিশ্বাস দূর করতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে ভাষা, গোত্র, বর্ণ কিংবা দলমত, ধর্ম, দর্শণ যার যা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ সবার। পাহাড় কিংবা সমতল যার বসবাস যেখানেই হোক না কেন যারা এই বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডের বৈধ নাগরিক আমাদের প্রত্যেকের প্রথম এবং প্রধান পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। সুতরাং, সমতল কিংবা বাহাড়ি, রাজধানী কিংবা শহর, নগর-বন্দর অথবা অজোপাড়া গায়ের গহিন গ্রাম, বসতি যার যেখানেই হোক বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সবার সামান অধিকার।
তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতিতে পাহাড়ি অঞ্চলের চেয়ে সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছে এই সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল। সমতলে বসবাসকারীদের জন্য প্রত্যয়নপত্র জোগাড় প্রক্রিয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ।
বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায় ক্রমে প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করবো। স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী আমলে হামলা, নির্যাতন উপলক্ষ্যে করেও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। পতিত, পরাজিত পলাতক স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ সামনে এসেছে।
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের টার্গেট নিয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রূপারেখা ঘোষণা করেছে। বিএনপি ঘোষিত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, দেশে কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে দলমত ধর্ম, বর্ণ গোত্র, গোষ্ঠী নির্বিশেষ সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি আপনাদের সক্রিয় সমর্থন এবং সহযোগিতা চায়। ক্ষুদ্র জাতীয় গোষ্ঠীর এই প্রতিনিধি সমাবেশ পাহাড়ি এবং সমতল ভূমিতে বসবাসকারী প্রতিটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির দিক নির্দেশক হয়ে উঠুক।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সভাপতি মৃগেন হাগিদকের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জন জেত্রার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখবেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ (প্রিন্স), ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সাধারণ সম্পাদক শিশির দিও, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও লেখক সঞ্জিব দ্রং প্রমুখ।