Image description
 

Rezaul Karim Rony(রেজাউল করিম রনি)


 
আওয়ামী লীগ ব্যাক ফুডে থাকলে তিনটা কার্ড খেলে। এটা খেলে সুশীল নামের ভন্ডদের দিয়ে। তাদের মিডিয়া দিয়ে। যেমন আজকে স্টারের মাহফুজ আনাম তার কলামে প্রচুর সংবিধান প্রেম দেখাইছে। এই খেলা বন্ধ না করতে পারলে দেশ থেকে লীগের জাহেলিয়াতের ছায়া ও আতঙ্ক দূর হবে না। কার্ড তিনটা হল-
১. সাংষ্কৃতিক কার্ড
২. ৭১/ বঙ্গবন্ধু কার্ড
৩. হিন্দু কার্ড।
১.
এই সাংষ্কৃতিক দিকটি বুঝতে পারা জরুরী। বাংলাদেশে এন্টি আওয়ামী সংস্কৃতি বলে কোন কিছু নাই। দাঁড় করানো হয় নাই গত ৫৪ বছরে। সবদল মিলে লীগের সংষ্কৃতিই চর্চা করে। এইটাই শিল্প-সাহিত্যে ক্যালকেশিয়ান ইসলাম বিদ্বেষী বামপন্থার মাধ্যমে মূলধারা হয়েছে। এটাই মিডয়াতে পরিবেশিত হয়। এর বাইরের সব কিছূ অচ্ছুত। অনান্দনিক। লোক সংস্কৃতি বড় জোর। ফলে এটা লম্বা লড়াই করে ঠিক করতে হবে। এটা নিয়া আমরা ১৫ বছর ধরে কাজ করছি। আমাদের হাতকে শক্তিশালী করুন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি সৃষ্টির কাজে মনযোগি হোন।
২.
এখন যদি কেউ ৭১ এর নামে, চেতনা রক্ষার নামে যদি কেউ রাস্তায় নামে, কাওহাও করে বুঝতে হবে সে শতভাগ ভন্ড। লীগের ৭১ চেতনা বিক্রির সময় এরা সবাই আগুনে শাহবাগী চেতনার ঘি ঢালছে। এখন আসছে ৭১ এর দরদ দেখাতে। লীগের মতন ৭১ বিরোধী শক্তি বাংলাদেশে একটাও নাই (স্বাীধনতার আগে ও সময়ে ভুল পজিশনে থাকা জামায়াতও স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশকে ধারণ করে রাজনীতি করে, লীগ উল্টাটা করেছে বরং)। ফলে এখন যারা পরাজিত ৭১ এর আওয়ামী চেতনা নিয়ে সামনে আগাতে চায় এরা বাংলাদেশের গণহত্যার সঙ্গী। ৭১ এর পক্ষের লোক ছিলাম আমরা যারা লীগের জাহেলিয়াতের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি। বাংলাদেশে বিরল কিছু লোক ছাড়া সবাই লীগের পেটে চলে গিয়েছিল। এবং লীগের ৭১ ব্যবসার চেতনা পরাজিত হয়েছে এবং ২৪ দায়িত্ব নিয়েছে ৭১ এর অর্জনকে রক্ষার। ফলে ৭১ বিষয়ে আপনার দরদ না দেখালেও চলবে। ৭১ এর জনযুদ্ধ এবং এর মাধ্যমে জনগনের অধিকার ও নাগরিক ভিত্তিক একটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ২৪ এর ঘাড়ে এসে পড়েছে। ফলে এখন যারা লীগের বি-টিম হিসেবে ৭১ নিয়ে হাওকাও করছে এরা ৭১ এবং ২৪ দুইটারই বিরোধী পক্ষ। এরা লুটেরা মাফিয়াদের জন্য মাঠ তৈরির জন্য পরাজিত শক্তিকে নতুন সুরে, নয়া বাহানায় নতুন করে নরমালাইজ করার চেষ্টা করছে মাত্র। এটাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে চালানো হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে কিছু কইলে ৭১ বিরোধী ট্যাগ দিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ এদের প্রতিহত করাই ৭১ এর স্পিরিটের সাথে যায়। ২৪ এর অঙ্গীকার রক্ষা হয়। ফলে যারা ৭১ নিয়ে মায়া কান্না করবে তাদের বাংলাদেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবেন সহজেই। এখানে জামায়াত কে নিয়ে অনেকে লীগের মতোন লেবু কচলাবে। কিন্তু জামায়াতের ভূমিকা পরিস্কার। তারা ৭১- এ ইতিহাসের রং সাইডে ছিল। ৭১ নিয়ে তাদের পজিশন জনগন জানে। এটা জানার পরেও তাদের বিষয়ে সীধান্ত নিবে মানুষ। কোন ডারতীয় দালাল ঠিক করবে না- এখানে কে রাজনীতি করবে, আর কে করবে না। এটা জনগন ঠিক করবে। সো ৭১ এর জাতীয় গৌরব উদ্ধারের দায়িত্ব ২৪ এর কাঁধে এসে পরেছে।
আমাদের আওয়ামী ইতিহাস থেকে বের হয়ে জাতীয় ইতিহাসে প্রবেশ করতে হবে।
৩.
হিন্দুরা সব চেয়ে বেশি অত্যাচার ও ক্ষতির শিকার হয়েছে লীগের মাধ্যমে। সব চেয়ে বেশি হিন্দু তোষণ করেছে লীগ আর সবচেয়ে বেশি হিন্দু মেয়েদের অসম্মান করেছে লীগের গুন্ডারা, সম্পত্তি দখল করেছে লীগের লোকজন। তার পরেও ডারতের সু-নজর থাকার কারণে হিন্দুদের একটা বড় অংশ লীগকে বেটর মনে করেছে। এটা মনে করে নিজেদের বাংলাদেশ বিরোধী অস্থানে ঠেলে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে তাদের বেরিয়ে আসতে হবে। লীগ ও ডারতের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের হিন্দু ভাই-বোনদের সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এই আগ্রাসী দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে ফাইটে তাকেও শামিল হতে হবে। নিজের দেশকে নিজে রক্ষার জন্য না দাঁড়িয়ে তার শত্রুকে সার্ভ করলে তাকে মজলুম হিসেবে কেউ গ্রহণ করবে না। হিসেবে ধরবে না। সেই মজলুম সব চেয়ে নিকৃষ্ট যে তার উপর জুলুমকারীকে সার্ভ করে। ফলে হিন্দু ভাই-বোনদের ২৪ এর আলোকে বাংলাদেশকে নিজের করে নিতে হবে। লীগের ঠুলি ফেলে দিয়ে, হিন্দু ও মাইনরিটি পরিচয়ের সাম্প্রদায়িক বয়ান বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ‘নাগরিক’ পরিচয়ের গৌরব রক্ষার সংগ্রামে এগিয়ে আসতে হবে। তাকে বিশ্বাস করতে হবে ভারত না বাংলাদেশই তার গৌরবের ভূমি। তাদের বুঝতে হবে সে বা তারা এই দেশের সার্বভৌমত্বের অংশীদার। বাংলাদেশে চাকরী, ব্যবসা করবে আর কলকাতয় সম্পত্তি করার জমিদারি আমলের খাসিলত বাদ দিতে হবে। নাগিরক হিসেবে তার উপর অন্যায় হলে অন্যরা যেমন পাশে দাঁড়াবে তাকেও তেমনি অন্যদের অধিকার হরণ হলে সোচ্চার হতে হবে।