
ব্র্যাক এর জনমত জরিপে যেটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট তা হলো বিএনপি- জামায়াত এর মধ্যে ক্লোজ গ্যাপ - যা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবার কারণ আছে । ইদানিং অন্যান্য ইউটিউবার/টিকটকারদের ক্যাজুয়াল জরিপগুলোতেও এমনটিই দেখা যাচ্ছে। যদিও সেগুলো কোন সায়েন্টিফিক জরিপ না- কিন্তু আমার কাছে পুরোপুরি ফেলে দেয়ার মতোও মনে হয়না। কয়েকজন ইউটিউবার আনকাট ভিডিও করছে- সেখানে এমন অনেক নতুন মানুষ জামায়াতকে সাপোর্ট করছে যারা মোটেই জামায়াত-শিবিরের জনশক্তি নয়। একেবারে সাধারণ বেপর্দা মহিলা বা হিন্দুরা প্রশ্ন শুনেই কোন সংকোচ ছাড়া জোর দিয়ে বলে দিচ্ছে যে তারা জামায়াতকে ভোট দিবে - এরকম ঘটনা এবারই নতুন এবং তা অনেক দেখা যাচ্ছে। এই ভিডিওগুলো সাজানো বা পরিকল্পিত হবার কোন আলামত নাই - উত্তরদাতাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, চোখে বা মুখে কোন সন্দেহজনক জড়তা নাই। তাই এটা নিশ্চিত যে বর্তমানে জামায়াতের সমর্থন বিএনপির অনেক কাছাকাছি - আমার মনে হয় ৫% এর বেশি গ্যাপ হবে না। ব্র্যাকের জরিপে জামায়াত-এনসিপি মিলেই বিএনপির চাইতে বেশি সমর্থন। তার সাথে অন্যান্য ইসলামীদলগুলোর সিংহভাগ যুক্ত হলে বিএনপিকে কঠিনভাবে চ্যালেঞ্জ করা অসম্ভব কিছু নয়।
নির্বাচনের আগে বিএনপির সমর্থন ব্যাপকভাবে বাড়ার কোন কারণ নাই। বিএনপির এখন একটাই ভরসা- তারেক রহমান দেশে আসলে একটা হাইপ উঠবে, তা দিয়ে একটা জোয়ার সৃষ্টি করবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এটাও নিশ্চিত কিছু নয়, বরং এই একটা স্ট্রাটেজির উপর নির্ভর করা এবং তা এতো লেইট স্টেজের জন্য রাখা বিএনপির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে এবং তা "টু লেইট টু রেক্টিফাই" হবে। আমাদের মনে আছে হাসিনার ছেলে জয় প্রথমবার দেশে আসা নিয়ে একটা হাইপ তোলা হয়েছিল, কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই "আমার কাছে তথ্য আছে" বা "সাড়ে আড়াই হাজার" ইত্যাদি নানা উদ্ভট আচরণ ও কথাবার্তার কারণে একটা হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছিল, দেশের তরুণ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী এমনকি তাকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি নাচানাচি করা আওয়ামী সিভিল সোসাইটি বা মিডিয়ার সাথেই সে রিলেট বা কমিউনিকেট করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
তারেক রহমানও একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে বলে আমার বিশ্বাস। প্রায় দেড় যুগ দেশের বাইরে থাকার কারণে তারেক রহমান বুঝতেই পারছেন না যে দেশের মানুষ ও সমাজ, বিশেষকরে তরুণ সমাজ কতটা চেঞ্জড হয়ে গেছে। তিনি দেশে আসলে এই নতুন পরিস্থিতি বোঝা ও পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়াতেই কয়েকমাস লেগে যাবে। একপর্যায়ে নানামুখী চাপে জয় এর মতোই উদ্ভট আচরণ ও কথাবার্তা বলতে শুরু করবেন। লন্ডনের ড্রয়িং রুম থেকে জুম মিটিং করে দল চালানো আর দেশে মাঠে ময়দানে রাজনীতি করা যে এক জিনিস নয় তা অল্পদিনেই টের পাবেন এবং আন্ডার প্রেসারে পড়ে হিমশিম খাবেন। নিজের ভুলেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে একটা জোকারে পরিণত হবেন - যার আভাস দিয়েছেন কিছুদিন আগে জুম মিটিঙয়ে এক শহীদের বোনের সমালোচনা ম্যানেজ করতে গিয়ে। আর জামায়াত-এনসিপি যারা এতোদিন তারেক রহমানকে সমালোচনার উর্ধে রেখেছিল তারা যদি চরমোনাইয়ের মতো এক্টিভলি তারেক রহমানকে টার্গেট করে প্রোপাগান্ডা চালায় তাহলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিএনপির এই একমাত্র আশার বেলুন ফুটো করে দেয়া সম্ভব!
সাকিব হেলাল