Image description
 

ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থার বিলোপ, নতুন বন্দোবস্তের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্য দিয়ে শুক্রবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে শুরু হয় অনুষ্ঠান। তারপর পর্যায়ক্রমে গীতা, ত্রিপিটক, বাইবেল পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

মঞ্চের সামনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা রয়েছেন। নতুন দলের নেতৃত্ব জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের কাছে গণশপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকায় কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দিয়েছেন অনুষ্ঠানে। তাদের মধ্যে রয়েছেন, জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমদ আল কাসেমী, বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ইসলামী আন্দোলন, ইসলাম

অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মহানগর, জেলা ও উপজেলা থেকে মিছিল নিয়ে এখনো আসছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা দুপুর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসছেন। দেশের ৬৪ জেলা থেকেই মানুষ আসছেন।

একটি সূত্র জানিয়েছে, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটি ১৫১-২০১ সদস্য বিশিষ্ট হতে পাতে পারে, যা আজই ঘোষণা করা হবে। দলের শীর্ষ অনেকগুলো পদ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সূত্রমতে, নতুন দলের সদস্য সচিব হচ্ছেন আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক: সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক : হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব নাহিদা সারওয়ার নিবা, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, দফতর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত। তবে আলোচনায় সাবেক শিবির নেতা আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত নতুন দলে আসছেন না বলে জানিয়েছে।

নতুন দলের ঘোষণাপত্র দেওয়া হতে পারে আজ। মূল বিষয় হিসেবে থাকছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো গণহত্যার দ্রুত ও ন্যায়বিচার, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপে কার্যকর রাষ্ট্রসংস্কার নিশ্চিত, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য কর্মসূচি নেওয়া, বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী সংবিধান পুনর্লিখন, নতুন সংবিধান তৈরি করতে গণপরিষদ নির্বাচন আয়োজন, গণপরিষদ নির্বাচন আইনসভা নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে অথবা আলাদাও হতে পারে। এ ছাড়া আরো বেশ কিছু সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

একাধিক সূত্রমতে, এনসিপির ঘোষণাপত্রে রাষ্ট্রকল্পের বহুদলীয় গণতন্ত্র, সাংস্কৃতিক সহাবস্থান, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পাচার ও লুটপাটবিরোধী উৎপাদনশীল অর্থনীতি উৎপাদনশীল অর্থনীতিসহ অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় পরিকল্পনাগুলো দার্শনিকভাবে তুলে ধরা হবে। এসব বিষয়ের বিস্তারিত থাকবে দলের কর্মসূচিতে। রমজানের মাঝামাঝি কর্মসূচি চূড়ান্ত হতে পারে। নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধান, গণপরিষদের বিষয়টি থাকবে ঘোষণাপত্রে।

সূত্রমতে, উদারপন্থি, ইসলামপন্থি, ডানপন্থি, বামপন্থি এবং রাষ্ট্রের সংস্কারপন্থিদের সম্মিলন ঘটিয়ে একটি মধ্যমপন্থি রাজনৈতিক দল হবে এনসিপি।