মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যক্তিগত অস্ত্র প্রদর্শন ঘিরে বিতর্ক। শেষপর্যন্ত এর জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ। তবে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের দাবি, প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়তে তাকে বাধ্য করা হয়নি। তিনি বরং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়ে নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে সেই অধ্যায় শেষ হলেও রাজনীতির মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তরুণ এ রাজনীতিবিদ। সেই সঙ্গে বাবা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ঐতিহ্য ধারণ, মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার রক্ষা, মাদকমুক্ত নগরী গড়া ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব বিষয় নিয়ে খোলাখুলিভাবে কথা বলেছেন ইশরাক হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক খালিদ হোসেন।
জাগো নিউজ: শুরুতেই জানতে চাই, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন ছিল আপনার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখন সেই দায়িত্বের বাইরে রয়েছেন। পেছনে ফিরে মন্ত্রিত্বের ওই অধ্যায়কে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
ইশরাক হোসেন: আমি আসলে বলবো, পেছনের এই সময়টা, অর্থাৎ আমরা যেদিন মন্ত্রিসভা গঠন করি, সেদিন থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত (১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং ১৯ অক্টোবর) সময়টা অত্যন্ত শিক্ষণীয় পর্ব ছিল আমার জন্য। একটি মন্ত্রণালয় কীভাবে চালাতে হয়, প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে কাজ করে, সেই বিষয়গুলোতে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রথম সুযোগ হয়েছে। অনেক কিছু শিখেছি।
মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাসহ যেসব বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম, সেগুলো নিয়ে কাজ করার এবং নিজের মতামত রাখার সুযোগ পেয়েছি। আমি বলবো, এটা জীবনের একটি স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে থেকে যাবে।
জাগো নিউজ: বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হিসেবে আপনার ওপর মানুষের প্রত্যাশা অনেক। বাবার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধারণ করে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার অভিজ্ঞতা কেমন?
ইশরাক হোসেন: শুরু থেকেই আমি স্বতন্ত্রভাবে রাজনীতিতে এসেছি। হ্যাঁ, আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন সময়ে কথা বলতে গিয়ে বিষয়টি তুলে ধরেছি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বিষয়টি মনেপ্রাণে ধারণ করি। এটি শুধু বলার জন্য বলা বা কোনো সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়।
এই দেশ কীভাবে স্বাধীন হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য, আমাদের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক সংগ্রাম হয়েছে, তা আমার বাবার জীবনেও দেখেছি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত হয়েছেন। তখন আমি সবকিছুই বুঝতাম। এসব ঘটনা আমাকে সব সময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তবে অনুপ্রেরণা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আমার নিজস্ব রাজনৈতিক চিন্তা, ধ্যানধারণা গড়ে উঠতে পারে না।
বাবা কখনোই চাননি যে আমি রাজনীতিতে আসি। বিশেষ করে যে সময়টায় রাজনীতিতে এসেছি, তখন কোনো বাবা-মাই রাজনীতিকে নিরাপদ মনে করতেন না। আমার বাবা-মাও মনে করেননি। কিন্তু আমি এক প্রকার জোর করেই মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ অগ্রভাগে থাকার চেষ্টা করেছি।
জাগো নিউজ: রাজনীতিতে অনেকেই পদ-পদবিকে নিজেদের সাফল্যের মাপকাঠি মনে করেন। আপনার (মন্ত্রিসভা থেকে) পদত্যাগের মাধ্যমে কি বোঝাতে চেয়েছেন, রাজনীতিতে পদ-পদবি নয়, আদর্শ ও জনসম্পৃক্ততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
ইশরাক হোসেন: অবশ্যই, অবশ্যই। আপনি একেবারে সঠিক বলেছেন। পদ-পদবি বা এসব বিষয় সাময়িক। কিন্তু জনগণের কাছে একজন রাজনীতিবিদের গ্রহণযোগ্যতা ও জনসমর্থনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাজনীতিবিদ সারা জীবন, এমনকি মৃত্যুর পরও জনগণের কাছে কীভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কোন পদে থাকলেন বা না থাকলেন, জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সমর্থন যদি থেকে যায়, তাহলে আমি বলবো, তিনি একজন সফল রাজনীতিবিদ হতে পেরেছেন। তাই আমি মনে করি, আমার এই পদত্যাগের মাধ্যমে একটি উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।
জাগো নিউজ: প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের জন্য ভবিষ্যতে আপনার ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক অঙ্গীকার কী?
ইশরাক হোসেন: তাদের জন্য আমার রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকবে, তারা যে সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, তা যেন সঠিকভাবে নিশ্চিত করা যায়। এ জন্য আমাদের সরকার কাজ করে যাবে। একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে আমার অবস্থান থেকে আমি সরকারকে সহযোগিতা করবো।
আপনারা এটাও জানেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জনজীবনে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো।
মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার নিয়ে আরেকটি বিষয় না বললেই নয়। বিগত দিনে লক্ষ্য করেছি, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অমুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের আমরা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে থাকি। ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে তাদের অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে আমাদের সরকার একাধিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে যিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, তিনি এসব পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমাদের মন্ত্রণালয়ের তালিকাটি যথাসম্ভব সংশোধন করা হবে, যাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাই তাদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা রাষ্ট্রের কাছ থেকে পান এবং কেউ যেন অন্যায় ও অনৈতিকভাবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুবিধা নিতে না পারেন।
জাগো নিউজ: মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডে আপনার সরাসরি অংশগ্রহণ সমাজের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমাজে মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন। মন্ত্রিসভার বাইরে থেকেও এই কার্যক্রম কীভাবে এগিয়ে নিতে চান?
ইশরাক হোসেন: আমরা অতি শিগগির একটি সংগঠন গঠন করতে চাই। আমার এই ঘটনার পর বিপুল সাড়া পেয়েছি। অনেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, যারা এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে এবং সহযোগিতা করতে চান।
ওই সংগঠনের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে একটি জাতীয় রূপ দিতে চাই। এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে আমার মূল অঙ্গীকার রয়েছে ঢাকা-৬ আসনের ভোটার এবং এই অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের প্রতি। এখানে মাদকের যেসব স্পট গড়ে উঠেছে, সেগুলো নির্মূল করার কাজও চালিয়ে যেতে চাই।
জাগো নিউজ: ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি রেখে যেতে চান?
ইশরাক হোসেন: একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি রেখে যেতে চাই। দেখুন, যখন আমি মূলধারার রাজনীতিতে সরাসরি প্রবেশ করেছি, তখন রাষ্ট্রে অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল। বাংলাদেশে মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। পরপর তিনটি নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে অবৈধ সরকার গঠন করা হয়েছিল। রাষ্ট্রকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। আমরা কোনোভাবেই সেই অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও যেন সেই পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে না হয়। আমি সেই উদাহরণ রেখে যেতে চাই।
আমরা একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। এখন সংসদে আলোচনা করছি, তর্ক-বিতর্ক করছি। এসবের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কেউ যেন বৈষম্যের শিকার না হন, কেউ যেন অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার না হন এবং জনগণের সব অধিকার যেন সমুন্নত থাকে।
জাগো নিউজ: মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বাবার রেখে যাওয়া ঐতিহ্য—সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনে ইশরাক হোসেনকে কী ভূমিকায় দেখতে পাবেন দেশের মানুষ?
ইশরাক হোসেন: আগামী দিনে কী ভূমিকা দেখতে পাবেন, সেটা মহান রাব্বুল আলামিন ছাড়া কেউ বলতে পারেন না। তবে বর্তমানে আমি একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন ঢাকা-৬। পুরান ঢাকা ও বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষে বিস্তৃত এই অঞ্চলে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে। ঢাকা-৬ আসন এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে জনগণের সমস্যা সমাধানের জন্য মাঠপর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখবো, ইনশাআল্লাহ।
বর্তমানে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ঢাকা নগরীর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আমরা সহযোগিতা করছি। প্রতি সপ্তাহে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমগুলো চলমান রয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধেও কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। নগরীকে মাদকমুক্ত করতে চাই। পাশাপাশি একটি নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিভিন্ন নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করা যায়। আগামী দিনে এসব বিষয় নিয়েই কাজ করবো।
জাগো নিউজ: প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে আপনার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ নিয়ে কেউ কেউ দলীয় হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আপনার বক্তব্য কী?
ইশরাক হোসেন: আমি অনেক সাক্ষাৎকার দিয়েছি, কিন্তু এই প্রশ্নটির জবাব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। যারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, তাদের বলবো, তারা বিষয়টি ভুলভাবে দেখছেন। আমাকে কোনোভাবেই শাস্তিমূলক কারণে হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়নি। আমি সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
এ জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, তাহলে দায়ী করতে হবে সেই ব্যক্তিদের, সেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চরিত্রগুলোকে এবং জাতীয় গণমাধ্যমগুলোকে; যারা একতরফাভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে আমার, আমার দলের বা সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না।
আমাকে বাধ্য করেছে ওই গণমাধ্যমগুলো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চরিত্রগুলো। হাইকমান্ডের ওপর কোনোভাবেই এ জন্য ভুলভাবে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ নেই। বরং একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি আমাকে সেদিন ওইভাবে অস্ত্র নিয়ে যেতে বলেননি। কিন্তু পরবর্তীকালে তাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণে, যেটিকে আমি গণমাধ্যমের ট্রায়ালের ফল বলে মনে করি, সেটি সামাল দিয়ে আমাকে রক্ষা করার পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমগুলোর কাছে সেই বিষয়টি প্রমাণ করতে হয়েছে।
তাই জনগণ যদি কাউকে এ জন্য দায়ী করতে চান, তাহলে আমি বলবো, আমার সরকারপ্রধানকে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চরিত্রগুলোকে দায়ী করুন।
জাগো নিউজ: আপনি একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন, যেখানে ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে ‘সুশীলদের’ বিদেশ থেকে দেশে এসে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিষয়টি কী?
ইশরাক হোসেন: এটা মিথ্যা। আমি এ ধরনের কোনো পোস্ট দিইনি। আপনারা আমার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং প্রোফাইলে গিয়ে দেখুন, এ ধরনের কোনো পোস্ট আমি দিইনি। আপনারা জানেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ফটোকার্ডের সংস্কৃতি চালু হয়েছে। আমার নাম দিয়ে কে বা কারা এ ধরনের কথা লিখে দিয়েছে। আমি কখনো এ ধরনের কোনো মন্তব্য করিনি।
জাগো নিউজ: দলের মধ্যে আপনার জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে কি?
ইশরাক হোসেন: একেবারেই না। আমি মনে করি, বরং দলের প্রায় সব স্তরের নেতাকর্মী, একেবারে তৃণমূলের কর্মী থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারাও আমার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন। এই উদ্যোগটি সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়—সেটিও তারা আমাকে জানিয়েছেন। আমার প্রতি তারা সব ধরনের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
জাগো নিউজ: সর্বশেষ জানতে চাই, আগামীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা আপনার আছে কি না?
ইশরাক হোসেন: অবশ্যই ইচ্ছা রয়েছে। এই কথাটি আমি আগেও বলেছি, আমার ইচ্ছা রয়েছে। এখন চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে দল, কাকে সমর্থন দেবে। দল যদি আমাকে সমর্থন দেয় এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়, তখন আমি মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় অংশ নেব। বিশেষ করে আমাদের দলে একাধিক মনোনয়নপ্রার্থী থাকবেন। মনোনয়ন বোর্ড এবং আমাদের দলের নেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই আমাদের সাক্ষাৎকার নেবেন। পরবর্তী সময়ে তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কাজ করবো।
তবে ইচ্ছা অবশ্যই আমার রয়েছে। কারণ, এই নগরীর সমস্যাগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। সেগুলো সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হলে আমাকে তো সেই জায়গাটিতে আগে যেতে হবে। সেই কাজটি করার জন্য আমি আগ্রহী।
জাগো নিউজ: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
ইশরাক হোসেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।