জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য সংসদ নির্বাচনের পরও বিভিন্ন দাবিতে একসঙ্গে কর্মসূচি পালন করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি ও নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান পোক্ত করতে মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এরই মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সাত দফা দাবিতে ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এর ঠিক আগের দিন শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে গণবিক্ষোভ করেছে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।
এনসিপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোটের রাজনীতির পাশাপাশি দলের নিজস্ব সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়াই এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থীদের পরিচিত করা, নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসন পাওয়া এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে নয়, নিজ দলীয় পরিচয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছে। জামায়াতও আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। অন্যদিকে জামায়াত ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে প্রার্থী করেছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে জোটসঙ্গী হলেও স্থানীয় নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থীরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন।
লংমার্চের ঠিক আগের দিন কেন এনসিপির আলাদা গণবিক্ষোভ, জানতে চাইলে দলীয় কর্মসূচি ও ১১ দলের ঐক্যের কর্মসূচি আলাদা উল্লেখ করে দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন স্ট্রিমকে বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কর্মসূচি থাকার সুযোগ রয়েছে। এনসিপির কর্মসূচির তারিখও আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। এটি জোটের কর্মসূচির বিপরীতে কোনো কর্মসূচি নয়।
তিনি জানান, শাহবাগের গণবিক্ষোভ সামনে রেখে গত এক সপ্তাহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে গণসংযোগ এবং লিফলেট বিতরণ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দুই মেয়র প্রার্থীকেও পরিচিত করার চেষ্টা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির সঙ্গে পৃথক কর্মসূচির সম্পর্ক রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে মনিরা বলেন, ‘ওইটাও আমাদের টার্গেট।’
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা একা করব, তো এইটা এনসিপির দলীয় কর্মসূচি হিসেবে দেখলেই আসলে ভালো হয়।’
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা মনে করছি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজস্ব কর্মসূচি থাকা উচিত। পাশাপাশি জোটের যে কর্মসূচি, সে কর্মসূচিকেও গুরুত্ব সহকারেই দেখব।’
আলাউদ্দীনের ভাষ্য, জোটভিত্তিক কর্মসূচিতে অনেক সময় ছোট শরিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজেদের অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। সে কারণে আলাদা দলীয় কর্মসূচি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোরও সুযোগ।
জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় মিশে যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি এনসিপি নিজের রাজনীতিটা হারিয়ে যায়, বিশেষ করে মাঠের রাজনীতি; তখন তো আসলে জামায়াতের কাছে সমর্পণ ছাড়া উপায় থাকবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দীন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে থেকেও আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা এনসিপির কৌশল হতে পারে।
স্ট্রিমকে তিনি বলেন, এনসিপি নতুন রাজনৈতিক দল। জামায়াতকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দলটির জন্য নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে এনসিপি এমন ভোটারদের কাছেও পৌঁছাতে চাইতে পারে, যাঁরা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে একমত নন, কিন্তু এনসিপিকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।