এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
রবিবার নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের ধ্বজাধারী এনসিপির রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না আর, বলার প্রয়োজন মনে করি না। তবে ইতিহাসের দায়ে কিছু বিষয়ে নোকতা দিয়ে রাখা জরুরী।’
তিনি লিখেছেন, ‘দেশে একটা মানুষ মারা গেছে, জামাতের নেতাকর্মীরা তার লাশ দাফন করতে দিচ্ছিল না, মব করে তার জন্য খোঁড়া কবর জোরপূর্বক ভরাট করে ফেলছে। ১৭ ঘণ্টা পরে তার বৃদ্ধা বোন আর মেয়ে রাতের আঁধারে মোবাইলের আলোতে প্লেট দিয়ে মাটি খুঁড়ে তাকে দাফন করেছে! এমন অমানবিক ঘটনার পরে এনসিপি সাংগঠনিকভাবে একেবারে নির্বিকার, নির্লিপ্ত ছিল। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি তো দূরে থাক; কোনো একজন নেতা সোশাল মিডিয়ায় পর্যন্ত একটা টু শব্দ করে নাই। মৃত ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। এক্ষেত্রে এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছেন। মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছেন। অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ওউন করেন। এই তাদের ওউন করার নমুনা!’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, ‘কয়েকদিন আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূজার সময়ে মন্দির প্রাঙ্গণে মন্দিরের অবশিষ্ট ইট ব্যবহার করে মাংস রান্নার ঘটনায় হ্যাডম দেখিয়ে পালটা গরু ভোজের আয়োজনের নেতৃত্বে ছিল এনসিপির ছাত্রসংগঠন— ছাত্রশক্তির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব!’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের আয়োজক তাহলে কারা? অথচ ছাত্র শক্তি-শিবির এবং মজলিসের এমন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের পরে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম দাবী করেছেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ হওয়ার ক্রেডিট নাকি বিরোধী দলের; সরকারের না।’
আব্দুল কাদের লিখেছেন, ‘চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে নারীকে ফ্লাইং কিক দেওয়া থেকে শুরু করে জামাত নেতা গাজী নজরুলের বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়ে জীবন দেওয়া সেই অসহায় তরুণী, নিপীড়িত নির্যাতিত এমন কোনো নারীর পক্ষে এনসিপি নারী নেতৃত্ব কিংবা দলীয় নেতারা টু শব্দ করেনি, ভিক্টিমদের পাশে দাঁড়ায়নি; তারা রাজনৈতিক কারণে আন্দোলন করেছিল হাতিয়ায় শাপলাকলিতে ভোট দেওয়ার জেরে ধর্ষণের মিথ্যা প্রোপাগান্ডার ঘটনায়! অথচ তাদের নতুন বন্দোবস্তে নাকি নারীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টা অগ্রভাগে।’
শেষে তিনি লিখেছেন, ‘মাদ্রাসায় এতো এতো শিশু বিকৃত যৌন লালসার শিকার হচ্ছেন, এ ব্যাপারে এনসিপি নেতাদের মুখে কোনো রা নেই! জি, এটাই হচ্ছে জামাত পরিচালনাধীন এনসিপির মধ্যপন্থী রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নারীর অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সর্বোপরি নতুন বন্দোবস্তের নমুনা।’