Image description

চারটি হত্যা মামলার আসামি পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল-জনযুদ্ধ) আঞ্চলিক নেতা নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিমকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় এ ঘটে। বাড়ি থেকে বের হয়ে চা খাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ধারণা করছে, অন্তঃকোন্দলের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের নামে চারটি হত্যা মামলা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে। সবগুলো মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টায় ফরমাইশখানা এলাকার তৈয়বের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন নাসিম। এসময় ভ্যানে করে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়েন। এতে তার মাথায় তিনটি গুলি লাগে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নাসিমের বিরুদ্ধে গণেশ হত্যা মামলায় ৩২ বছরের ও একটি অস্ত্র মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা রিয়াজ শাহেদ হত্যাচেষ্টা, জাহিদ চেয়ারম্যান হত্যা মামলাসহ আরও কয়েকটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। ২০০২ সালে গণেশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০২৫ সালের ১৮ জুন রাতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে। তবে থানায় নেওয়ার পথে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন। চার দিন পর ২২ জুন খুলনার খালিশপুরের মুজগুন্নি পার্ক এলাকার একটি ভবন থেকে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি জামিনে বের হয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) আঞ্চলিক নেতা হিসেবে দিঘলিয়া ও খুলনা এলাকায় সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। তিনি সবগুলো মামলায় জামিনে ছিলেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নাসিম একটা ‘বিগ শট’ চরমপন্থি নেতা ছিলেন। তার নিজস্ব লোকজন সবসময় তার বসবাসের এলাকার চারপাশ পাহারা দেয়। নিজস্ব বডিগার্ড নিয়ে সবসময় ঘোরাফেরা করতেন। তার দলে ৭০-৮০ জন সদস্য রয়েছে। সবাই শার্প শ্যুটার। বিভিন্ন ধরনের চরম পন্থার কাজ নাসিমুল গণি করিম ওরফে নাসিম তার বাহিনীর লোক দিয়ে করাতেন। ২০২১ সালের দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত খুলনা-৪ আসনের সাবেক এমপি সালাম মুর্শেদীর শেল্টারে নাসিম এলাকায় ফিরে কার্যক্রম শুরু করেন। ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রমে তৎপর হন। তবে পুলিশ তাকে নজরদারিতে রেখেছিল। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও ভুক্তভোগীরা কেউ মামলা করতে সাহস পাননি। পরবর্তীতে সকল মামলায় জামিনে বের হয়ে ফের এলাকায় ফেরেন নাসিম।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাওলাদার সানোয়ার হুসাইন মাসুম জাগো নিউজকে বলেন, তার বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের আদেশ থাকলেও সবগুলো মামলায় সে জামিনে ছিল। প্রাথমিক তদন্তে অন্তঃকোন্দলের কারণে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার স্থান থেকে গুলির খোসা ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। নাসিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জাগো নিউজকে বলেন, নাসিমুল গণি করিম দিঘলিয়া থানার অধিবাসী ছিলেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টি ‘জনযুদ্ধের’ নেতা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। রোববার দুপুর আনুমানিক ১২টার সময় ভ্যানে করে মাথায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দুইজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে গুলি করে। গুলি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে। অতিদ্রুত হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।