রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয় থেকে আটকদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। যাচাই-বাছাইয়ের পর রোববার ভোরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পল্টন থানার ওসি (অপারেশনস) মো. আলাউদ্দিন রোববার সকালে টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সবশেষ ১৯ জনকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের ব্যাপারেও যাচাই-বাছাই চলছে।
পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, শনিবার বিকালে জাসদ কার্যালয় থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে গুলিস্তানে জিপিওর উল্টাদিকে জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে আসেন দলের প্রায় চারশ নেতাকর্মী। এই সভায় মাইক ব্যবহারের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চেয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর ডিএমপির কাছে চিঠিও দেওয়ার কথা জানান জাসদ নেতারা।
দুপুরের দিকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে যুবদলের নেতাকর্মীরা জাসদ কার্যালয় অবরুদ্ধ করে। তারা মব সৃষ্টির এক পর্যায়ে সেখানে যায় পুলিশ। পরে জাসদ কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি সভায় আসা নেতাকর্মীদের আটক করা হয়।
অবশ্য পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডির ওই মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে পরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন।
জাসদের প্রধান কার্যালয়ে বহিরাগত অনেকে অবস্থান নিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদেরকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়েছে বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন।
জাসদ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক দল। এই দলের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। এরই মধ্যে একটি মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।