গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর (দ্বিতীয় স্ত্রী) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। এদিকে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এরপর নজরুলের সংসদ সদস্যপদের কী হবে, সেই আলোচনা আবার সামনে এসেছে।
এদিকে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে গাজী নজরুল ইসলামের বিকল্প হিসেবে তিন নেতাকে ঘিরে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের শ্যামনগর উপজেলা শাখার আমির ও শিক্ষক মাওলানা আবদুর রহমান, সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আমির শহীদুল ইসলাম (মুকুল) ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানি
তবে জামায়াতের দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আবদুর রহমানকে দলের পক্ষ থেকে এই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এমনকি উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি না হলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের জন্যও তাকে বিকল্প ভেবে রেখেছে দলটি।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-১ আসনে দলীয় সংসদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন যখন আসন শূন্য ঘোষণা করবে, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
সাতক্ষীরা–৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুর রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি, সংগঠন এবং এলাকার জনগণ সবার জন্য যিনি মঙ্গল হন, তাঁকেই দল প্রার্থী করবে। যাঁকেই প্রার্থী করা হোক, আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে প্রমাণ করব, সাতক্ষীরায় জামায়াতের অবস্থান শক্তিশালী।’
তবে দলটির দায়িত্বশীল আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এই আসনে জামায়াতের সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আমির শহীদুল ইসলাম (মুকুল) ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানির নামও বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আগেই জানিয়েছে। তবে সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পায়নি নির্বাচন কমিশন।
তিনি বলেন, ‘স্পিকারের কাছ থেকে আমরা এখনো কোনো চিঠি পাইনি। সংসদ সচিবালয় থেকে চিঠি পাওয়ার বিধান রয়েছে। চিঠি পেলেই সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্পিকারের চিঠি ছাড়া এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই।’
এর আগে, গত ২২ জুলাই দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুলকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দল জানায়, তদন্তে তাঁর নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জামায়াত জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে পৃথক চিঠি পাঠায়। তবে এ বিষয়ে স্পিকার বা নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি।
জামায়াত সূত্র বলছে, ব্যবস্থা নেওয়ার চিঠি দেওয়ার অর্থ হচ্ছে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে উপনির্বাচন দেওয়া। কিন্তু তার সংসদ সদস্যপদ শূন্য ঘোষণার বিষয়ে স্পিকার বা কমিশনকে কিছু বলেনি জামায়াত।
গত নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনের ৯৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে গাজী নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান পান ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট। এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালেও এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন গাজী নজরুল।