জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট বাঁধলেও স্থানীয় নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১ দলীয় জোটের শরীক দলগুলো। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্ট্রিমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতৃত্বে জোটটি গঠন হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্ট্রিমকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন জোটগতভাবে হবে না—এটা আমাদের ১১ দলীয় জোটেরই সিদ্ধান্ত। সব দলের নেতারা একসঙ্গে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে জোটের প্রত্যেক দল আলাদাভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হবেন।
একই কথা জানিয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন তো দলীয় প্রতীক নিয়ে হবে না। প্রতীক ছাড়া হবে। এই হিসেবে আমরা আগে থেকেই আলোচনা করেছি, জোটের প্রত্যেক দল তাদের শক্তি-সামর্থ্য ও বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। আমাদের ১১ দলীয় ঐক্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে হয়েছিল। এর সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই এই নির্বাচনে প্রত্যেকটি দল নিজেদের মতো করে অংশ নিবে। এটাই আলোচনা হয়েছে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন থেকে শুরু করে মহানগর পর্যন্ত সব জায়গায় কমিটি দেওয়ার কার্যক্রমও চালাচ্ছে। এ বিষয়ে দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য তাহসীন রিয়াজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আমরা শুধু একটা নির্বাচন হিসেবে দেখছি না। একে আমরা ইউনিয়ন থেকে শুরু করে শহরের ওয়ার্ড পর্যন্ত সংগঠনকে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছি। ফলে এটা আমাদের কাছে যতটা না ইলেকশন, তার চেয়ে বেশি সংগঠন গোছানোর প্রক্রিয়া হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে আমরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমাদের প্রতিদিনই কোনো না কোনো ইউনিয়নে কমিটি ঘোষণা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো, আমরা সব ইউনিয়নেই কমিটি করব। আর যতো বেশি কমিটি হবে, তত বেশি প্রার্থী আমরা ঠিক করে ফেলতে পারব। আমরা এই টার্গেট নিয়েই এগোচ্ছি।’
এনসিপি দল গোছানোর লক্ষ্য নিয়ে এগোলেও জামায়াতে ইসলামী ভালো ফল অর্জনকে টার্গেট করে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী এরই মধ্যে মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তাদের আমরা মনিটরিং করছি। আমরা মনে করি, আলাদাভাবে নির্বাচন করলে জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও স্থানীয় নির্বাচনে ভালো ফল করা সম্ভব।’
প্রার্থী বাছাই শেষের দিকে
এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থী বাছাই প্রায় শেষের দিকে। দুই দলের নেতারা বলছেন, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত বেশিরভাগ জায়গায় প্রার্থী বাছাই ও ঘোষণা চলছে। খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করবে দল দুটি।
এ বিষয়ে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনের প্রার্থী ঢাকা থেকে ঘোষণা দেব। আর বাকিগুলো জেলা ও মহানগর থেকে ঘোষণা করা হবে। এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা শুরু হয়েছে। আমার কাছে সর্বশেষ যে তথ্য আছে, তাতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের মতো প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে। কিছু প্রার্থী পরিবর্তন করা লাগতে পারে।’
অন্যদিকে তাহসীন রিয়াজ বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থী ঘোষণা করেছি। এছাড়া ২৫ দিন আগে উপজেলা ও পৌরসভা মিলিয়ে ১০০ জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করেছিলাম। আরও ১০০ জায়গায় আমাদের আমাদের প্রার্থী তৈরি আছে। আমরা যেকোনো সময় ঘোষণা দিব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পূর্ণমাত্রায় স্থানীয় সরকার নিয়ে কাজ করছি। আমরা নিয়মিত বসছি, প্রোফাইলিং করছি। ধাপে ধাপে আমাদের সব প্রার্থী ঘোষণা হবে।’
এনসিপির ফোকাস সিটি করপোরেশন
এনসিটি তাদের প্রার্থী নির্বাচনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদকে ফোকাসে রেখেছে। এ বিষয়ে সারোয়ার তুষার বলেন, ‘ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, পৌরসভা—সবগুলোর জন্যই প্রার্থী তৈরি করা হচ্ছে। তবে ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ সব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সঙ্গে মহানগরের রাজনীতি জড়িত।’
তাহসীন রিয়াজ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনগুলো আমাদের যে প্রার্থী রয়েছে, তারা সবাই নিজ নিজ এলাকায় খুবই জনপ্রিয়। বিশেষ করে আমাদের ঢাকার দুই প্রার্থীই তরুণদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তাই আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সিটি কর্পোরেশনের প্রার্থীদের যেন আমরা একেবারে স্ট্রেন্থফুল জায়গা থেকে হাই লেভেলে সাপোর্ট দিয়ে বের করে আনতে পারি।’
জামায়াতের নজর সব স্তরে
জামায়াতে ইসলামী স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার কাঠামো তৈরি হয়েছে জনগণের সেবার জন্য। এখানে ইউনিয়ন পরিষদ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, উপজেলা পরিষদেরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। এজন্য আমরা সব নির্বাচনেই সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বিবেচনা করছি।’